নিম্নমুখী বাজার কী?
সুচিপত্র
ভূমিকা
নিম্নমুখী বাজার বা বিয়ার মার্কেট কী?
নিম্নমুখী বাজারের উদাহরণ
নিম্নমুখী বাজার বনাম ঊর্ধ্বমুখী বাজার – পার্থক্য কী?
নিম্নমুখী বাজারে কিভাবে ট্রেড করতে হয়
শেষ কথা
নিম্নমুখী বাজার কী?
হোম
নিবন্ধ
নিম্নমুখী বাজার কী?

নিম্নমুখী বাজার কী?

প্রকাশিত হয়েছে Aug 5, 2020আপডেট হয়েছে Jan 31, 2023
6m

ভূমিকা

আর্থিক বাজার প্রবণতা অনুসরণ করে। ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এই প্রবণতাগুলোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে? ঠিক আছে, বাজারের ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা বাজারের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে। আপনি যদি না জানেন যে অন্তর্নিহিত প্রবণতা কী, তাহলে আপনি কিভাবে পরিবর্তনশীল অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন?

কোনো বাজারের প্রবণতা হলো বাজার সার্বিকভাবে কোন দিকে যাচ্ছে তা। নিম্নমুখী বাজারে, মূল্য সাধারণত হ্রাস পেতে থাকে। ট্রেড বা বিনিয়োগ করার জন্য নিম্নমুখী বাজার চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, বিশেষ করে নতুনদের জন্য। 

বেশিরভাগ ক্রিপ্টো ট্রেডার এবং টেকনিক্যাল বিশ্লেষক সম্মত হন যে বিটকয়েন তার অস্তিত্ব জুড়ে সামস্টিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও, অনেক বিরামহীন ক্রিপ্টোকারেন্সি নিম্নমুখী বাজার রয়েছে। এগুলোর ফলে সাধারণত বিটকয়েনের মূল্য 80% এর বেশি পতন হয়েছে, যেখন অল্টকয়েনের মূল্য সহজেই 90% এর বেশি পতন হতে পারে। এই সময়ে আপনি কী করতে পারেন?

এই নিবন্ধে, আমরা একটি নিম্নমুখী বাজার বা বিয়ার মার্কেট কী, এর জন্য আপনার কিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত এবং কিভাবে আপনি এতে লাভবান হতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করব।

আপনি যদি প্রথমে ঊর্ধ্বমুখী বাজার বা বুল মার্কেট সম্পর্কে পড়তে চান তবে ঊর্ধ্বমুখী বাজার বা বুল মার্কেট কী? তা দেখুন।


নিম্নমুখী বাজার বা বিয়ার মার্কেট কী?

নিম্নমুখী বাজারকে আর্থিক বাজারে মূল্য হ্রাসের সময় হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। অনভিজ্ঞ ট্রেডারদের জন্য নিম্নমুখী বাজার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ট্রেড করা কঠিন হতে পারে। সেগুলো সহজেই বড় ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদেরকে আর্থিক বাজার বিমুখ করতে পারে। কিভাবে? 

ট্রেডারদের মধ্যে এই কথাটি প্রচলিত আছে: "সিঁড়ি উপরে উঠে, লিফট নিচে নামে।" এর মানে হলো, উল্টোদিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি ধীর-স্থির হতে পারে, কিন্তু নিচের দিকে নামার গতি অনেক বেশি তীক্ষ্ণ এবং ভয়ানক হতে পারে। কেনো এমন হয়? যখন মূল্য কমা শুরু হয়, তখন অনেক ট্রেডার বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে যান। তারা হয় ক্যাশ করার জন্য বা তাদের লং পজিশন থেকে লাভ নিয়ে নেওয়ার জন্য এটি করে থাকেন। এটি দ্রুত একটি ডোমিনো প্রভাবে পরিণত হতে পারে, যেখানে কিছু কিছু বিক্রেতা বের হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ফলে আরো বেশি বিক্রেতাও বের হতে চান এবং এভাবেই এগিয়ে চলে। যদি বাজার খুব বেশি লিভারেজ হয়ে থাকে তবে এই পতন আর বেশি বাড়তে পারে। গণহারে তরলীকরণের একটি আরো স্পষ্ট ক্যাসকেডিং প্রভাব থাকবে, যার ফলে প্রচন্ড বিক্রির চাপ সৃষ্টি হবে।

বলা হয়, ঊর্ধ্বমুখী বাজারে রমরমা পর্যায়ও থাকতে পারে। এই সময়ে, চরম হারে মূল্য বারে, পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, এবং বেশিরভাগ অ্যাসেটের মূল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

সাধারণত, নিম্নমুখী বাজারে বিনিয়োগকারীরাও "বিয়ারিশ" হয়, যার অর্থ তারা দাম কমার আশা করে। এর আরো মানে হলো, বাজারের সেন্টিমেন্ট সাধারণত বেশ কম থাকে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে বাজারের সকল অংশগ্রহণকারী শর্ট পজিশনে সক্রিয় থাকেন। এর মানে হলো, তারা দাম কমার আশা করেন এবং সুযোগ হলে সে অনুযায়ী নিজেদের পজিশন তৈরি করতে পারেন।


নিম্নমুখী বাজারের উদাহরণ

আমরা যেমনটি আলোচনা করেছি, অনেক বিনিয়োগকারী মনে করেন, ট্রেড শুরু হওয়ার পর থেকে সামস্টিকভাবে বিটকয়েন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। এর মানে কি সেই ঊর্ধ্বমুখী দৌড়ে নিম্নমুখী বাজার সৃষ্টি হয়নি? না। 2017 সালের ডিসেম্বরে বিটকয়েন প্রায় $20,000-এ চলে যাওয়ার পর, এটি বেশ ভয়ানকভাবে নিম্নমুখী বাজারে ছিল।

2017 সালের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের পর বিটকয়েনের মূল্য কমে যায়।

2017 সালের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের পর বিটকয়েনের মূল্য কমে যায়।


এবং 2018 সালের নিম্নমুখী বাজারের আগে, বিটকয়েন 2014 সালে 86% হ্রাস পেয়েছিল।

বিটকয়েনের দাম 2013 সালের শীর্ষস্থান থেকে 86% কমে গেছে।

বিটকয়েনের দাম 2013 সালের শীর্ষস্থান থেকে 86% কমে গেছে। 


2020 সালের জুলাই পর্যন্ত, পূর্ববর্তী নিম্নমুখী বাজারের সীমা কমে প্রায় $3,000-এ স্থিতিশীল ছিল কিন্তু তা থেকে আর কখনো কমেনি। যদি সেই নিম্নসীমাটি অতিক্রম করে আর নিচে চলে যেত, একটি শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করা যেতে পারে যে বহু বছরের নিম্নমুখী বিটকয়েন বাজার এখনও চলমান থাকতো।

বিটকয়েন তার পূর্বের নিম্নমুখী বাজারের সীমা আবার পরীক্ষা করছে।

বিটকয়েন তার পূর্বের নিম্নমুখী বাজারের সীমা আবার পরীক্ষা করছে।


যেহেতু সেই পর্যায় থেকে আর নিচে নামেনি, তাই যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, কোভিড-19 পরবর্তী পতনের ভয় কেবলমাত্র সেই সীমাটির একটি পুনঃপরীক্ষা ছিল। এখনও, টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এর ক্ষেত্রে কোনো নিশ্চয়তা নেই, এটি শুধুমাত্র সম্ভাবনা।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী বাজারের উদাহরণ স্টক মার্কেট থেকে পাওয়া যায়। মহামন্দা, 2008 সালের আর্থিক সংকট, বা করোনাভাইরাস অতিমারীর কারণে 2020 সালের স্টক মার্কেটে পতন সবই উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এই সমস্ত ঘটনা ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং বোর্ড জুড়ে স্টকের দামকে প্রভাবিত করেছে। বাজার সূচক যেমন নাসদাক 100, ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ (DJIA), বা S&P 500 সূচক বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের উল্লেখযোগ্য মূল্য হ্রাসের অভিজ্ঞতা পেতে পারে।


নিম্নমুখী বাজার বনাম ঊর্ধ্বমুখী বাজার – পার্থক্য কী?

পার্থক্য মোটামুটি সোজা। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দাম বাড়তে থাকে, আর নিম্নমুখী বাজারে দাম কমতে থাকে।

একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হতে পারে যে নিম্নমুখী বাজারের কনসলিডেশন বা একত্রীকরণের জন্য দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, যেমন, সাইডওয়ে বা রেঞ্জিং প্রাইস অ্যাকশন। এই সময়গুলোতে বাজারের অস্থিরতা বেশ কম থাকে, এবং সে সময় ট্রেডিং কার্যকলাপ কম থাকে। যদিও ঊর্ধ্বমুখী বাজারের ক্ষেত্রেও একই রকম হতে পারে, তবে এই ধরনের আচরণ নিম্নমুখী বাজারে বেশি ঘটে থাকে। সর্বোপরি, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব আকর্ষণীয় নয়।

অন্য কিছু বিবেচনা করার বিষয় হলো, প্রথমেই কোনো অ্যাসেটে শর্ট পজিশন প্রবেশ করা সম্ভব কি না। মার্জিন বা ডেরিভেটিভ ব্যবহার করে কোনো অ্যাসেটে যদি শর্ট করার ক্ষমতা না থাকে, তবে ট্রেডাররা নগদ অর্থে বা স্ট্যাবলকয়েনের জন্য বিক্রি করে বাজারে একটি নিম্নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারেন। এর ফলে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে, ক্রয়ের কম আগ্রহ সহ নিম্নমুখী প্রবণতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার ফলে একটি ধীরস্থির ও ঘটনাবিহীন সাইডওয়ে প্রাইস অ্যাকশন দেখা যেতে পারে।


➟ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে শুরু করতে চাইছেন? Binance-এ বিটকয়েন ক্রয় করুন!


নিম্নমুখী বাজারে কিভাবে ট্রেড করতে হয়

নিম্নমুখী বাজারে ট্রেডাররা ব্যবহার করতে পারেন এমন একটি সহজ কৌশল হলো নগদে (বা স্ট্যাবলকয়েনে) থাকা। আপনি যদি দাম কমার কারণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তাহলে বাজার নিম্নমুখী বাজারের অঞ্চল থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো হতে পারে। যদি এমন কোনো প্রত্যাশা থাকে যে ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে নতুন ঊর্ধ্বমুখী বাজার আসতে পারে, তবে আপনি এর সুবিধা নিতে পারেন। একই সময়ে, আপনি যদি বহু বছর বা দশক ধরে কোনো বিনিয়োগ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী HODLing করেন, তবে বিক্রি করার জন্য নিম্নমুখী বাজার কোনো সরাসরি সংকেত নয়।

যখন বিষয়টি ট্রেডিং এবং বিনিয়োগের ব্যাপারে আসে, তখন সাধারণত বাজারের প্রবণতা অনুযায়ী ট্রেড করা একটি ভালো ধারণা। এই কারণেই নিম্নমুখী বাজারে আরেকটি লাভজনক কৌশল হতে পারে শর্ট পজিশন খোলা। এইভাবে, যখন অ্যাসেটের দাম কমে, তখন ট্রেডাররা পতন থেকে লাভ করতে পারেন। এগুলো ডে ট্রেড, সুইং ট্রেড, পজিশন ট্রেড হতে পারে – প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রবণতা অনুযায়ী ট্রেড করা। এটি বলার পরেও, অনেক বিপরীতমুখী ট্রেডার "পাল্টা-প্রবণতা"র ট্রেড সন্ধান করবে, যার অর্থ হলো এটি প্রধান প্রবণতার দিকনির্দেশের বিরুদ্ধে। আসুন দেখি এটি কিভাবে কাজ করে।

নিম্নমুখী বাজারের ক্ষেত্রে, ফিরে আসার সময় এটি একটি লং পজিশনে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিবর্তনটিকে কখনও কখনও "নিম্নমুখী বাজারের র‍্যালি" বা "ডেড ক্যাট বাউন্স" বলা হয়। এই বিপরীতমুখী-প্রবণতার মূল্য পরিবর্তন ভয়ানকভাবে অস্থিতিশীল হতে পারে, কারণ অনেক ট্রেডার স্বল্প-মেয়াদী বাউন্সের লং পজিশনের সুযোগ নেওয়ার জন্য উদগ্রীব হতে পারে। তবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সামগ্রিক নিম্নমুখী বাজার শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুমান করা যায় যে বাউন্সের পরে নিম্নমুখী প্রবণতা আবার শুরু হবে। 

এই কারণেই সফল ট্রেডাররা লাভ নেবেন (সাম্প্রতিক মূল্য বৃদ্ধি থেকে) এবং নিম্নমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার আগে বের হয়ে যাবে। অন্যথায়, নিম্নমুখী বাজার চলতে থাকার সময় তারা তাদের লং পজিশনে আটকে যেতে পারেন। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। এমনকি সবচেয়ে অভিজ্ঞ ট্রেডাররাও যখন নিম্নমুখী অবস্থা থেকে মুনাফা চেষ্টা করেন তখন উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। 


শেষ কথা

আমরা নিম্নমুখী বাজার কী, কিভাবে ট্রেডাররা নিম্নমুখী বাজার থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারেন এবং সেখান থেকে লাভবান হতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি। সংক্ষেপে, সবচেয়ে সহজ কৌশল হলো নিম্নমুখী বাজারে নগদে থাকা – এবং ট্রেড করার একটি নিরাপদ সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা। বিকল্পভাবে, অনেক ট্রেডার শর্ট পজিশন তৈরি করার সুযোগ খুঁজবে। আমরা জানি, ট্রেড করার ক্ষেত্রে বাজারের প্রবণতার দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।