আর্বিট্রেজ ট্রেডিং কী?
সুচিপত্র
ভূমিকা
আর্বিট্রেজ ট্রেডিং কী?
আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের ধরণ
আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের সাথে যুক্ত ঝুঁকি
শেষ কথা
আর্বিট্রেজ ট্রেডিং কী?
হোম
নিবন্ধ
আর্বিট্রেজ ট্রেডিং কী?

আর্বিট্রেজ ট্রেডিং কী?

প্রকাশিত হয়েছে Nov 18, 2020আপডেট হয়েছে Nov 16, 2022
6m

TL;DR

আর্বিট্রেজ ট্রেডিং একটি অপেক্ষাকৃত কম-ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং কৌশল যা মার্কেট জুড়ে মূল্যের পার্থক্যের সুবিধা নেয়। বেশিরভাগ সময়, এর মধ্যে বিভিন্ন এক্সচেঞ্জে একই অ্যাসেট (যেমন বিটকয়েন) ক্রয় এবং বিক্রয় জড়িত থাকে। যেহেতু বিটকয়েনের মূল্য, তাত্ত্বিকভাবে, Binance এবং অন্য এক্সচেঞ্জে সমান হওয়া উচিত, উভয়ের মধ্যে যেকোনও পার্থক্য একটি আর্বিট্রেজের সুযোগ।

এটি ট্রেডিং বিশ্বে খুব প্রচলিত কৌশল, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি বড় ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হাতিয়ার। ক্রিপ্টোকারেন্সির কল্যাণে ফাইনান্সিয়াল মার্কেটের গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডারদেরও এটির সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।


ভূমিকা

আপনি নিজেকে একটি লাভজনক ট্রেডের নিশ্চয়তা দিতে পারলে কী হবে? এটি দেখতে কেমন হবে? এমনকি ট্রেডে প্রবেশ করার আগে আপনাকে জানতে হবে যে আপনি লাভ করতে যাচ্ছেন। এই ধরণের বাড়তি সুযোগ থাকা যেকেউই শেষ পর্যন্ত এটিকে ব্যবহার করবে।

গ্যারান্টিযুক্ত লাভের মতো কোনো জিনিস না থাকলেও, আর্বিট্রেজ ট্রেডিং হলো এর সবচেয়ে কাছাকাছি একটি বিষয় যা আপনি পেতে পারেন। ট্রেডারেরা এই ধরণের ট্রেডে প্রবেশের সুযোগ পেতে হিংস্রভাবে প্রতিযোগিতা করে। এই কারণেই, আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ে লাভ সাধারণত খুব কম হয় এবং প্রতি ট্রেডের গতি ও পরিমাণের উপর অনেক বেশি নির্ভর করে। এই কারণেই বেশির ভাগ আর্বিট্রেজ ট্রেডিং হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং (HFT) ফার্ম দ্বারা তৈরি অ্যালগরিদম দ্বারা করা হয়।


আর্বিট্রেজ ট্রেডিং কী?

আর্বিট্রেজ ট্রেডিং হলো একটি ট্রেডিং কৌশল যার লক্ষ্য একই সাথে একটি মার্কেটে একটি অ্যাসেট ক্রয় এবং অন্য মার্কেটে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করা। এটি সাধারণত বিভিন্ন এক্সচেঞ্জে ট্রেড করা অভিন্ন অ্যাসেটের মধ্যে করা হয়। এই ফাইনান্সিয়াল উপকরণগুলোর মধ্যে মূল্যের পার্থক্য, তাত্ত্বিকভাবে, শূন্য হওয়া উচিত কারণ তারা বেশ আক্ষরিক অর্থেই একই অ্যাসেট।

একজন আর্বিট্রেজ ট্রেডার, বা আর্বিট্রেজারের কাছে যে চ্যালেঞ্জটি রয়েছে তা শুধু এই মূল্যের পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করাই নয়, দ্রুত ট্রেড করতে সক্ষম হওয়া। যেহেতু অন্যান্য আর্বিট্রেজ ট্রেডারেরাও মূল্যের (ব্যবধান) এই পার্থক্যটি দেখতে পাচ্ছেন, তাই লাভের সুযোগটি সাধারণত খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বোপরি, যেহেতু আর্বিট্রেজ ট্রেড সাধারণত কম-ঝুঁকির হয়, তাই রিটার্ন সাধারণত কম হয়। এর মানে হলো আর্বিট্রেজ ট্রেডারদের শুধুমাত্র দ্রুত কাজ করতে হবে না, কিন্তু তাদের এটিকে কার্যকর করতে প্রচুর পুঁজির প্রয়োজন।

আপনি হয়ত ভাবছেন ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডারদের জন্য কী ধরণের আর্বিট্রেজ ট্রেডিং উপলভ্য আছে। সুবিধা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ধরণ আছে, চলুন আলোচনা করা যাক। 


আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের ধরণ

অনেক ধরণের আর্বিট্রেজ কৌশল রয়েছে যা সারা বিশ্বের বিভিন্ন মার্কেটে ট্রেডারেরা সুবিধা গ্রহণ করে। তবে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডারদের ক্ষেত্রে, কিছু স্বতন্ত্র ধরণ রয়েছে যেগুলো বেশ সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়।


এক্সচেঞ্জ আর্বিট্রেজ

আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ হল এক্সচেঞ্জ আর্বিট্রেজ, যেটি হলো যখন একজন ট্রেডার একই ক্রিপ্টোঅ্যাসেট এক এক্সচেঞ্জে কিনে অন্য এক্সচেঞ্জে বিক্রি করে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। আপনি যদি বিভিন্ন এক্সচেঞ্জে একই অ্যাসেটের অর্ডার বইগুলো দেখেন, আপনি দেখতে পাবেন যে প্রায় কখনোই মূল্যগুলো একই সময়ে একই রকম হয় না। এখানেই আর্বিট্রেজ ট্রেডারেরা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তারা লাভের জন্য এই ছোট পার্থক্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। ফলস্বরূপ, এটি অন্তর্নিহিত মার্কেটকে আরো দক্ষ করে তোলে কারণ বিভিন্ন ট্রেডিং ভেন্যুতে মূল্য তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিসরে থাকে। এই অর্থে, মার্কেটের অদক্ষতা সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

বাস্তবে এটি কিভাবে কাজ করে? ধরা যাক Binance এবং অন্য এক্সচেঞ্জের মধ্যে বিটকয়েনের মূল্যের পার্থক্য রয়েছে। যদি একজন আর্বিট্রেজ ট্রেডার এটি দেখেন, সে কম মূল্যের এক্সচেঞ্জে বিটকয়েন কিনতে চাইবে এবং বেশি মূল্যের এক্সচেঞ্জে বিক্রি করতে চাইবে। অবশ্যই, সময় ও এক্সিকিউশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিটকয়েন একটি তুলনামূলকভাবে পরিপক্ক মার্কেট, এবং আর্বিট্রেজের সুযোগ বিনিময় করার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।


ফান্ডিং রেট আর্বিট্রেজ

ক্রিপ্টো ডেরিভেটিভস ট্রেডারদের জন্য আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের আরেকটি সাধারণ ধরণ হলো ফান্ডিং রেট আর্বিট্রেজ। এটি তখন হয় যখন একজন ট্রেডার একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয় করে এবং একই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে একটি ফিউচার কন্ট্রাক্টের সাথে এর মূল্যের গতিবিধি হেজ করে যেটির অর্থায়নের হার ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনার খরচের চেয়ে কম। খরচ, এই ক্ষেত্রে, পজিশনের জন্য খরচ হতে পারে এমন যেকোনো ফি।

ধরা যাক আপনি কিছু ইথেরিয়াম এর মালিক। আপনি এই বিনিয়োগে খুশি হতে পারেন, কিন্তু ইথেরিয়ামের মূল্য অনেক ওঠানামা করতে চলেছে। তাই আপনি আপনার ইথেরিয়াম বিনিয়োগের সমান মূল্যের জন্য একটি ফিউচার চুক্তি (শর্টিং) বিক্রি করে আপনার মূল্যের এক্সপোজার হেজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ধরা যাক সেই কন্ট্রাক্টের ফান্ডিং রেট আপনাকে 2% দেয়। এর অর্থ হলো আপনি কোনো মূল্য ঝুঁকি ছাড়াই ইথেরিয়ামের মালিকানার জন্য 2% পাবেন, যার ফলে একটি লাভজনক আর্বিট্রেজ সুযোগ হবে।


ট্র্যায়াঙ্গুলার আর্বিট্রেজ

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্বে আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের আরেকটি খুব প্রচলিত ধরণ হল ট্র্যায়াঙ্গুলার আর্বিট্রেজ। এই ধরণের আর্বিট্রেজ হলো যখন একজন ট্রেডার তিনটি ভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে মূল্যের অমিল লক্ষ্য করেন এবং এক ধরণের লুপে একে অপরের সাথে বিনিময় করেন।

ট্র্যায়াঙ্গুলার আর্বিট্রেজের পিছনে ধারণাটি একটি ক্রস-কারেন্সি মূল্যের পার্থক্যের (যেমন BTC/ETH) সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা থেকে আসে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার BNB দিয়ে বিটকয়েন কিনতে পারেন, তারপর আপনার বিটকয়েন দিয়ে ইথেরিয়াম কিনতে পারেন এবং অবশেষে ইথেরিয়াম দিয়ে আবার BNB কিনতে পারেন। যদি ইথেরিয়াম ও বিটকয়েনের মধ্যে আপেক্ষিক মান BNB-এর সাথে এই মুদ্রাগুলোর প্রতিটি মূল্যের সাথে মেলে না, তাহলে একটি আর্বিট্রেজ সুযোগ বিদ্যমান থাকে।


➟ ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে শুরু করতে চাইছেন? তাহলে Binance থেকে বিটকয়েন ক্রয় করুন!


আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের সাথে যুক্ত ঝুঁকি

যদিও আর্বিট্রেজ ট্রেডিংকে তুলনামূলকভাবে কম-ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তার মানে এই নয় যে এটিতে একদমই ঝুঁকি নেই। ঝুঁকি ছাড়া, কোনো পুরস্কার হয় না এবং আর্বিট্রেজ ট্রেডিংও অবশ্যই এর ব্যতিক্রম নয়।

আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের সাথে যুক্ত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল এক্সিকিউশন রিস্ক। এটি ঘটে যখন আপনি ট্রেড চূড়ান্ত করতে সক্ষম হওয়ার আগে মূল্যের মধ্যে ব্যবধান বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে শূন্য বা নেতিবাচক রিটার্ন হয়। এটি স্লিপেজ, ধীরগতি এক্সিকিউশন, অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ লেনদেনের খরচ, হঠাৎ করে অস্থিরতা বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে হতে পারে।

আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ে জড়িত থাকার সময় আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো তারল্য ঝুঁকি। এটি তখন ঘটে যখন আপনার আর্বিট্রেজ সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে যে বাজারে ট্রেড করতে হবে সেটিতে ইন ও আউট করার জন্য আপনার কাছে যথেষ্ট তারল্য নেই। আপনি যদি ফিউচার কন্ট্রাক্টের মতো লিভারেজড ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করে ট্রেড করেন, তাহলে ট্রেড আপনার বিরুদ্ধে গেলে আপনি কোনো মার্জিন কলে হিটও হতে পারেন। যথারীতি, সঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শেষ কথা

আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের সুবিধা নিতে সক্ষম হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডারদের জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ। এই ধরণের কৌশলগুলোতে অংশগ্রহণ করার জন্য সঠিক পরিমাণ গতি ও মূলধনসহ, আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই স্বল্প-ঝুঁকিপূর্ণ, লাভজনক ব্যবসা চালানে পারেন।

আর্বিট্রেজ ট্রেডিংয়ের সাথে যুক্ত ঝুঁকি উপেক্ষা করা উচিত নয়। যদিও আর্বিট্রেজ ট্রেডিং "ঝুঁকিমুক্ত লাভ" বা "গ্যারান্টিযুক্ত লাভ", বলতে পারে, তবে বাস্তবতা হল যে কোনো ট্রেডারকে উত্তেজিত করার মত যথেষ্ট ঝুঁকি এখানে রয়েছে।

আর্বিট্রেজ ট্রেডিং বা পরিসংখ্যানগত আর্বিট্রেজ সম্পর্কে এখনও প্রশ্ন আছে? আমাদের প্রশ্নোত্তর প্ল্যাটফর্ম,  আস্ক অ্যাকাডেমি দেখুন, যেখানে Binance কমিউনিটির সদস্যগণ আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবেন।