ক্রিপ্টো বনাম স্টক: পার্থক্য কী?
সুচিপত্র
ভূমিকা
 
ক্রিপ্টোকারেন্সি কী? 
স্টক কী?
ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টকের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো কী কী?
আমার কি ক্রিপ্টোকারেন্সি না স্টকে বিনিয়োগ করবো?
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ
স্টকে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ
শেষ কথা 
ক্রিপ্টো বনাম স্টক: পার্থক্য কী?
হোম
নিবন্ধ
ক্রিপ্টো বনাম স্টক: পার্থক্য কী?

ক্রিপ্টো বনাম স্টক: পার্থক্য কী?

প্রকাশিত হয়েছে May 28, 2022আপডেট হয়েছে Sep 29, 2022
6m

TL;DR

ক্রিপ্টোকারেন্সি হল ডিজিটাল অ্যাসেট যা ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে সুরক্ষিত ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কে চলে। এগুলো বিনিময়ের মাধ্যম ও ভ্যালুর স্টোর হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্টক কোনো কোম্পানির শেয়ারের ভগ্নাংশের মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে। দুটি ভিন্ন ভিন্ন অ্যাসেট শ্রেণী হলেও, ক্রিপ্টো ও স্টক উভয়ই ট্রেডযোগ্য ও বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

 

ভূমিকা

স্টক দীর্ঘ ইতিহাসসমৃদ্ধ একটি অ্যাসেট শ্রেণী যা দীর্ঘ ও স্বল্প-মেয়াদী উভয় রিটার্নই প্রদান করতে পারে। ক্রিপ্টো হল একটি নতুন আর্থিক উপকরণ যা উচ্চ মূল্যের অস্থিরতা ও ঝুঁকি প্রবণ। উভয় উপকরণই ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোকে প্রায়শই অধিক প্রথাগত অ্যাসেটের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তা সত্ত্বেও, উভয় মার্কেটেই লাভজনক কৌশল থাকতে পারে। এই নিবন্ধটি দুটি অ্যাসেটের সুবিধা ও অসুবিধাগুলোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। 

 

ক্রিপ্টোকারেন্সি কী? 

সহজ ভাষায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি হল ব্লকচেইন প্রযুক্তি দ্বারা চালিত ডিজিটাল মুদ্রা। তারা লেনদেন সুরক্ষিত ও যাচাই করার জন্য ক্রিপ্টোগ্রাফিক কৌশলের উপর নির্ভর করে এবং সাধারণত বিনিময়ের মাধ্যম ও ভ্যালুর স্টোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ডিসেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্কে চলে এবং তাদের বাজার মূল্য সরবরাহ ও চাহিদা দ্বারা চালিত হয়।

স্টক কী?

স্টক কোনো ব্যবসায় ইক্যুইটির আংশিক মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে ও তারা একটি কার্যকরী প্রতিষ্ঠানের মূল্যকে প্রতিফলিত করে। কখনও কখনও, কোনো স্টকের মালিক লভ্যাংশ আকারে কোম্পানির লাভের একটি অংশের অধিকারী হয়। কোনো স্টকের ভ্যালু কোম্পানির পারফর্ম্যান্স ও প্রাসঙ্গিক সংবাদ ঘোষণার মত অন্যান্য নিয়ামকের কারণে ওঠানামা করতে পারে। 

 

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টকের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো কী কী?

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টক দুটোকেই বিনিয়োগকারীরা সম্পদ তৈরি করতে ব্যবহার করতে পারেন। তবুও, স্টকে বিনিয়োগ করা ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ করা থেকে আলাদা। 

ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ মানে কোনো কোম্পানির শেয়ারের মালিকানা পাওয়া নয়, যেটি স্টকের বিপরীত। ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগকারীরা প্রচলিত অর্থে লভ্যাংশও পায় না। পরিবর্তে, প্যাসিভ ইনকামের জন্য কেউ কেউ তাদের ক্রিপ্টো টোকেন ধার দিতে বা স্ট্যাক করতে পারে। 

ক্রিপ্টো ও স্টক কিভাবে ট্রেড করা হয় তার মধ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে। আপনি দিনে ও রাতের যেকোনো সময়ে যেকোনো ডিজিটাল কারেন্সি এক্সচেঞ্জে ক্রিপ্টো কিনতে পারেন, আর স্টক এক্সচেঞ্জগুলো সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করে। 

 

আমার কি ক্রিপ্টোকারেন্সি না স্টকে বিনিয়োগ করবো?

উভয় অ্যাসেট শ্রেণীরই নিজ নিজ সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আপনার ঝুঁকি সহনশীলতা ও অন্যান্য পছন্দের উপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। আপনি কোন বিনিয়োগ পণ্য ব্যবহার করেন তা নয়, দিনশেষে, আপনার বিনিয়োগের সাফল্যকে যা চালিত করে তা হল ঝুঁকি ও পুরস্কার মূল্যায়ন করার আপনার ক্ষমতা। অভিজ্ঞ অনেক বিনিয়োগকারী ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টক উভয়কেই রেখে তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনেন।

 

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

সুবিধাদি 

অ্যাক্সেসযোগ্য: ক্রিপ্টো সীমানা নির্ভর নয়। ইন্টারনেট সংযোগ থাকা যেকেউ এটি ব্যবহার করতে পারে। 

ডিসেন্ট্রালাইজড: অধিকাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি সিস্টেম কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করে না, যা ক্রিপ্টোকে সেন্সরশিপ ও সেন্ট্রালাইজড নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী করে তোলে।

মুদ্রাস্ফীতি-প্রতিরোধী: ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতিগুলোর দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয় না, তাই তাদের মূল্য মুদ্রাস্ফীতিতে কম নমনীয়। তবে, সব ক্রিপ্টোকারেন্সি এক নয়, তাই প্রতিটি ক্রিপ্টো অ্যাসেটের ইস্যু করার হার ও সেটির সরবরাহ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

নমনীয়: স্টকের তুলনায়, বিনিয়োগকারীদের কাছে ট্রেডিং ছাড়াও তাদের ক্রিপ্টো হোল্ডিং বাড়ানোর আরো উপায় রয়েছে। ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরা ইল্ড ফার্মিংস্ট্যাকিং ও তারল্য সরবরাহ করে লাভ পেতে পারে। আপনি কিভাবে আপনার ক্রিপ্টো হোল্ডিং বাড়াতে পারেন তার একটি দুর্দান্ত উদাহরণ হল Binance আর্ন এর মতো পণ্য। 

বৈচিত্র্যময়: অনেক টোকেনের ভ্যালু শুধুমাত্র আর্থিক নয়। যেমন ফ্যান টোকেন, টোকেন হোল্ডারদেরকে তাদের প্রিয় স্পোর্টস টিম বা ব্র্যান্ডে এক্সক্লুসিভ সুবিধা ও অগ্রাধিকার প্রদান করতে পারে। কিছু কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি হল গভার্নেন্স টোকেন, যা হোল্ডারদেরকে নিজ নিজ প্রজেক্ট বা প্রোটোকলের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করার অধিকার দেয়।

অসুবিধা

মূল্যের অস্থিরতা: নাটকীয় মূল্য পরিবর্তন প্রবণ ক্রিপ্টো মার্কেটের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে দ্রুত লাভের সম্ভাবনা খুব আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে, তাদের সচেতন হতে হবে যে এর নেতিবাচক দিক হল সমানভাবে নাটকীয় ক্ষতির সম্ভাবনা।

ত্রুটিযুক্ত নিয়ন্ত্রণ: অনেক দেশেই ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ, কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ ও সর্বজনীনভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। বিনিয়োগকারীদেরকে পরিপালন সংক্রান্ত সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং তাদের অবস্থান অনুযায়ী আইনি গবেষণা করতে হবে। 

হেফাজতের ঝুঁকি:  বিটকয়েনের মত ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে কোনো ডিজিটাল ক্রিপ্টো ওয়ালেটে সংরক্ষিত টোকেন অ্যাক্সেস করার জন্য প্রাইভেট কীর প্রয়োজন হয়। কোনো সিড ফ্রেজ ভুলে গেলে বা কোনো ফিজিক্যাল ক্রিপ্টো ওয়ালেট হারিয়ে গেলে চিরতরে আপনার ক্রিপ্টো অ্যাক্সেস হারিয়ে যেতে পারে।

আয়ের নিশ্চয়তা নেই: অন্যান্য যেকোনো ফাইনান্সিয়াল মার্কেটের মতো, ক্রিপ্টোতেও কোনো নিশ্চিত আয় নেই। বিটকয়েন ও অন্যান্য অল্টকয়েনগুলো দীর্ঘমেয়াদে ভাল পারফর্ম করলেও ভবিষ্যতে এগুলো যে বাড়তেই থাকবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই আর এমন সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে যে স্বল্প মেয়াদের বিনিয়োগে এগুলো খুব ভালো করবে না। 

 

স্টকে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

সুবিধা

ক্রমবর্ধমানভাবে অ্যাক্সেসযোগ্য: মার্কেটে বহু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের উত্থানের সাথে সাথে স্টকে বিনিয়োগ করা সহজ হয়ে উঠছে। এমন অনেক ধরণের পরিষেবার সহজ ইন্টারফেস রয়েছে এবং অন্যান্য আর্থিক পরিষেবার সাথে ইন্টিগ্রেট করা।

নিয়ন্ত্রিত: বহু সরকার ব্যাপকভাবে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণ স্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিকলি ট্রেড করা কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই তাদের স্টকের মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে এমন সকল তথ্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) এর কাছে প্রকাশ করতে হবে — যেটি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি তদারকি সংস্থা। 

(কিছুটা) মুদ্রাস্ফীতি-প্রতিরোধী: নির্দিষ্ট ধরনের কিছু স্টক, যেমন ট্রেজারি ইনফ্লেশন-প্রোটেক্টেড সিকিউরিটিজ (TIPS), মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে হেজ হিসেবে কাজ করতে পারে।

বৈচিত্র্য: খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন শিল্প ও খাত জুড়ে স্টকের বিস্তৃত সমাহার উপলভ্য। ট্রেডাররা কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেল ও লোকেশন থেকে শুরু করে তারা লভ্যাংশ দেবে কি না পর্যন্ত অনেক মানদণ্ডের ভিত্তিতে ইক্যুইটি বেছে নিতে পারেন।

অসুবিধা

অস্থিরতা: স্টক মার্কেটও, স্বল্প মেয়াদে মূল্যের আকস্মিক পরিবর্তন হওয়ার বাইরে নয়। কোনো কোম্পানির ব্যবসা ভালো হলে সেটির স্টক মূল্যও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একইভাবে, যদি কোনো কোম্পানি লোকসানের রিপোর্ট করে বা পত্রিকায় নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়, তাহলে স্টকের ভ্যালু পড়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। উপরন্তু, কিছু কিছু স্টকের মূল্য অন্যদের তুলনায় অধিক হারে ওঠা নামা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রোথ স্টকগুলোর ভ্যালু নিখুঁত খ্যাতির প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোর শেয়ারগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করা ব্লু-চিপ স্টকগুলোর তুলনায় অধিক ওঠানামা করে।

উচ্চতর ফি: অধিকাংশ ক্ষেত্রে, স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট ফিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের তুলনায় সেগুলো আরো বেশি পরিমাণ আছে। আপনার স্টক ক্রয় বা বিক্রয় করার সময় ব্রোকারেজ ফি ও কমিশনের বাইরেও অন্যান্য চার্জও থাকে।

আয়ের নিশ্চয়তা নেই: অন্যান্য যেকোনো ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের মতো, স্টকেরও কোনো নিশ্চিত আয় নেই। দীর্ঘমেয়াদে প্রায়শই বিকল্প বিনিয়োগকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মত স্টক থাকলেও, এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে সেগুলো স্বল্প মেয়াদের বিনিয়োগের সময় ভালো নাও করতে পারে।


শেষ কথা 

ক্রিপ্টো ও স্টকের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকলেও তাদের মধ্যেও সাদৃশ্যও রয়েছে। ক্রিপ্টো ও স্টক উভয়ই বিনিয়োগের কার্যকর পছন্দ এবং আপনার পোর্টফোলিওতে এগুলো বিভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। আপনি যেটিই বেছে নিন না কেন, সর্বদা নিশ্চিত করুন যে আপনি সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং DYOR করেছেন।