সুইং ট্রেডিং ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে নবাগতদের জন্য নির্দেশিকা
সুচিপত্র
ভূমিকা
সুইং ট্রেডিং কী?
সুইং ট্রেডারগণ কিভাবে অর্থ উপার্জন করেন?
ডে ট্রেডিং বনাম সুইং ট্রেডিং – পার্থক্য কী?
ক্রিপ্টোকারেন্সির সুইং ট্রেডিং কিভাবে শুরু করবেন
শেষ কথা
সুইং ট্রেডিং ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে নবাগতদের জন্য নির্দেশিকা
হোম
নিবন্ধ
সুইং ট্রেডিং ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে নবাগতদের জন্য নির্দেশিকা

সুইং ট্রেডিং ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে নবাগতদের জন্য নির্দেশিকা

প্রকাশিত হয়েছে Aug 6, 2020আপডেট হয়েছে Jan 31, 2023
6m

ভূমিকা

সুইং ট্রেডিং হলো সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি ট্রেডিং কৌশল যা নতুন ট্রেডারদের জন্য আদর্শ হতে পারে। নিয়ন্ত্রণযোগ্য সময়ের কারণে বাজার সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করার এটি একটি অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক উপায়। সুইং ট্রেডারগণ বেশিরভাগ আর্থিক বাজারে সক্রিয় থাকেন, যেমন ফরেক্স, স্টক এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি। কিন্তু সুইং ট্রেডিং কি আপনার জন্য উপযুক্ত কৌশল? আপনার কি ডে ট্রেডিং বা সুইং ট্রেডিং শুরু করা উচিত?

এই নিবন্ধে, সুইং ট্রেডিং ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে আপনার যা যা জানা দরকার তা আমরা ব্যাখ্যা করব এবং এটি আপনার জন্য সঠিক পছন্দ কি না সে সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে সাহায্য করব।


সুইং ট্রেডিং কী?

সুইং ট্রেডিং হলো এমন একটি ট্রেডিং কৌশল যাতে স্বল্প থেকে মাঝারি সময়ের মধ্যে মূল্যের উঠানামার সুযোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করা হয়। সুইং ট্রেডিংয়ের পিছনে যে ধারণাটি কাজ করে তা হলো বাজারের "সুইং" ধরা, যা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে।

সুইং ট্রেডিং কৌশলগুলো ট্রেন্ডিং মার্কেটে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। যদি একটি বেশি সময় ধরে কোনো শক্তিশালী প্রবণতা থাকে, তবে সুইং ট্রেডিংয়ের প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং সুইং ট্রেডারগণ মূল্যের বড় পরিবর্তনের সুবিধা নিতে পারেন। অন্যদিকে, সংকুচিত বা কনসোলিডেটিং মার্কেটে সুইং ট্রেডিং বেশি কঠিন হতে পারে। সর্বোপরি, যদি বাজার পার্শ্বদিকে এগিয়ে যায়, তবে মূল্যের বড় পরিবর্তনগুলো ধরা কঠিন হয়।


সুইং ট্রেডারগণ কিভাবে অর্থ উপার্জন করেন?

উপরে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, সুইং ট্রেডারদের লক্ষ্য হলো কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত মূল্যের পরিবর্তনগুলো থেকে সুবিধা নেওয়া। যেমন, সুইং ট্রেডারগণ ডে ট্রেডারদের চেয়ে বেশি সময় ধরে পজিশন ধরে রাখবেন, কিন্তু ক্রয় করে ধরে রাখেন এমন বিনিয়োগকারীদের কম সময় ধরে রাখেন।

সুইং ট্রেডারগণ সাধারণত ট্রেডের ধারণা তৈরি করতে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস ব্যবহার করবেন, যদিও তা ডে ট্রেডারদের মতো একই পরিমাণে নয়। যেহেতু মৌলিক ঘটনাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে, তাই সুইং ট্রেডারগণও তাদের ট্রেডিং ফ্রেমওয়ার্কে ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস ব্যবহার করতে পারেন। 

তা সত্ত্বেও, প্রাইস অ্যাকশন, ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট প্যাটার্ন, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল এবং টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরগুলো সাধারণত ট্রেড সেটআপগুলো শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। সুইং ট্রেডারগণ ব্যবহার করেন এমন কিছু সাধারণ টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর হলো মুভিং অ্যাভারেজ, রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (RSI), বলিঞ্জার ব্যান্ড এবং ফিবোনাচ্চি রিট্রেসমেন্ট টুল

সুইং ট্রেডারগণ সাধারণত মাঝারি থেকে উচ্চ টাইম ফ্রেম চার্টের দিকে নজর রাখেন। কেনো? বেশি সময়সীমার মধ্যে একটি শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু, কোনো প্রবেশ করার ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পয়েন্টের জন্য 1-ঘণ্টা, 4-ঘণ্টা, 12-ঘণ্টার চার্টের মতো ইন্ট্রাডে টাইম ফ্রেমও দেখতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, এই ট্রিগারগুলো স্বল্প সময়সীমার একটি ব্রেকআউট বা পুলব্যাক হতে পারে। 

তবে, সুইং ট্রেডিংয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ফ্রেম সম্ভবত দৈনিক চার্ট। তা সত্ত্বেও, ট্রেডার ভেদে ট্রেডিং ও বিনিয়োগ কৌশল খুবই আলাদা হতে পারে। মনে রাখবেন, আমরা এখানে যা আলোচনা করেছি তা কোনো কঠোর নিয়ম নয়, কেবল সাধারণ উদাহরণ।


ক্রিপ্টোকারেন্সিতে শুরু করতে চাইছেন? Binance-এ বিটকয়েন ক্রয় করুন!


ডে ট্রেডিং বনাম সুইং ট্রেডিং – পার্থক্য কী?

স্বল্প সময়ে মূল্যের যে পরিবর্তন হয় ডে ট্রেডারগণের লক্ষ্য হলো সেখান থেকে সুবিধা নেওয়া, যেখানে সুইং ট্রেডারগণের লক্ষ্য হলো বড় পরিবর্তনের সুবিধা নেওয়া। কার্যত, ডে ট্রেডিং হলো তুলনামূলক বেশি সক্রিয় কৌশল, যেখানে ট্রেডারদেরকে ঘন ঘন বাজার পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং তারা এক দিনের বেশি পজিশন ওপেন রাখেন না।

অন্যদিকে, সুইং ট্রেডারগণ আরো পরোক্ষ পন্থা গ্রহণ করতে পারেন। তারা তাদের অবস্থানগুলো কম ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, কারণ তাদের লক্ষ্য হলো মূল্যের উঠানামা থেকে মুনাফা করা এবং এতে বেশি সময় লাগবে। যেহেতু এই উঠানামা বড় বৃহত্তর হতে থাকে, তাই সুইং ট্রেডারগণ মাত্র কয়েকটি বিজয়ী ট্রেড থেকেও প্রচুর আয় করতে পারেন।

ডে ট্রেডারগণ প্রায় একচেটিয়াভাবে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস ব্যবহার করবেন। সুইং ট্রেডারগণ সাধারণত টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের সমন্বয় ব্যবহার করবেন, তবে সাধারণত টেকনিক্যালের উপর জোর দেবেন। অন্য প্রান্তে, বিনিয়োগকারীরা টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আদৌ বিবেচনা নাও করতে পারেন এবং শুধুমাত্র ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করতে পারেন।

কোনটি আপনার জন্য ভালো, ডে ট্রেডিং না কি সুইং ট্রেডিং? ছোট থেকে বড় সময়সীমার মধ্যে এবং টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে আপনি নিজের অবস্থায় কোথায় দেখতে পান? কোন ট্রেডিং কৌশল আপনার ব্যক্তিত্ব, ট্রেডিং স্টাইল এবং বিনিয়োগের লক্ষ্যগুলোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

আপনি আপনার শক্তিশালী দিকগুলো বিবেচনা করতে পারেন এবং সেই শক্তিশালী দিকগুলোর জন্য উপযোগী ট্রেডিং স্টাইল বেছে নিতে পারেন। কেউ কেউ আছে যারা দ্রুত পজিশনে ঢুকতে ও বের হতে পছন্দ করেন এবং যখন তারা ঘুমিয়ে থাকেন তখন পজিশন ওপেন থাকা নিয়ে চিন্তা করে না। অন্যদের ক্ষেত্রে আরো ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, সম্ভাব্য সকল ফলাফল বিবেচনা করতে এবং ট্রেডিং পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে তারা বেশি সময় ব্যয় করেন।

স্বাভাবিকভাবেই, কোনটি সেরা ফলাফল দেয় তা দেখতে আপনি এই কৌশল থেকে অন্য কৌশলের মধ্যে যেতে পারেন। আপনি আপনার প্রকৃত ট্রেডিংয়ের পরিকল্পনায় কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করার আগে পেপার ট্রেডিং (অর্থাৎ, নকল অর্থ দিয়ে ট্রেডিং) করতে পারেন।


ক্রিপ্টোকারেন্সির সুইং ট্রেডিং কিভাবে শুরু করবেন

ট্রেডিং শুরু করার জন্য সুইং ট্রেডিং একটি আদর্শ উপায় হতে পারে। কিভাবে? দীর্ঘ সময়ের কারণে (এটি আসলে খুব বেশি দীর্ঘ নয়), শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, এবং ট্রেডগুলো সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

আপনি যদি ট্রেডিংয়ে সম্পূর্ণ নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে নবাগতদের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা দেখতে পারেন। ট্রেডিং সম্পর্কে আপনার কী কী জানা দরকার এবং আপনার ট্রেডিংয়ের স্টাইল খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য কিছু পরামর্শ ঐ নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনি যদি আপনার জ্ঞান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, তবে Binance ফিউচার টেস্টনেট-এ পেপার ট্রেডিং করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে, আপনি প্রকৃত অর্থিক ঝুঁকি না নিয়েই আপনার সুইং ট্রেডিংয়ের দক্ষতা পরীক্ষা করতে পারেন।

সুতরাং, যখন আপনি নিজেকে প্রস্তুত মনে করবেন তখন আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে ট্রেড করা শুরু করতে পারবেন। ক্রিপ্টোকারেন্সির সুইং ট্রেডিংয়ের জন্য সেরা অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম কোনটি? অনেক বিকল্প রয়েছে, কিন্তু Binance ইকোসিস্টেম শত শত বাজার জোড়া, ত্রৈমাসিক এবং মেয়াদবিহীন ফিউচার, মার্জিন ট্রেডিং , লিভারেজযুক্ত টোকেন এবং আরো অনেক কিছু অফার করে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই সুইং ট্রেডিংয়ের সুযোগের জন্য আদর্শ হতে পারে।


শেষ কথা

ক্রিপ্টোকারেন্সির মতোই, সুইং ট্রেডিং হলো স্টক ট্রেডিংয়ে সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি ট্রেডিং কৌশল। নিজস্ব ট্রেডিংয়ের সেটআপের উপর নির্ভর করে, সুইং ট্রেডারগণ সাধারণত কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে পজিশন ধরে রাখবেন।

আপনার কি সুইং ট্রেডিং বা ডে ট্রেডিং শুরু করা উচিত? খুঁজে বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেগুলোর উভয়টিই চেষ্টা করে দেখা এবং কোনটি আপনার ট্রেডিং স্টাইলের সাথে সবচেয়ে বেশি মানানসই তা দেখা। শুরু করার আগে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিগুলো সম্পর্কে জানাও সহায়ক হতে পারে, যেমন স্টপ লস এবং সঠিক পজিশন সাইজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা।

ডে ট্রেডিং সম্পর্কে এখনও আরো জানতে চান? আমাদের প্রশ্নোত্তর প্ল্যাটফর্ম, আস্ক অ্যাকাডেমি দেখুন যেখানে আপনি Binance কমিউনিটির মধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন।