হোম
শব্দকোষ
অপরপক্ষের ঝুঁকি

অপরপক্ষের ঝুঁকি

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি কী?

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি অর্থ ও বিনিয়োগের জগতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সেই ঝুঁকিকে বোঝায় যেখানে কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়িত এক পক্ষ খেলাপি হয় বা চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয় এবং এর ফলে অন্য পক্ষের আর্থিক ক্ষতি হয়। সহজ কথায় এটি হলো আপনি যে পক্ষের সাথে লেনদেন করছেন সে পক্ষটি চুক্তি পালন করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হওয়ার ঝুঁকি।

রিটেইল ব্যাংকিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি স্পেসসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি থাকে। এটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই ঘটতে পারে এবং এটি ব্যক্তি, কর্পোরেশন ও সরকারের উপর প্রভাব ফেলে। আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সকলের জন্যই কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি বোঝা ও ব্যবস্থাপনা করা অপরিহার্য।

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকির উৎস

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকির প্রধান উৎস হলো ঋণখেলাপের বা দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা। যদি একটি কাউন্টারপার্টি দেউলিয়া হয়ে যায়, এর অর্থ হলো তারা তাদের আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে অক্ষম এবং এর ফলে অন্য পক্ষের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেউলিয়াত্ব বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে যেমন, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক মন্দা, কার্যক্রমজনিত ব্যর্থতা, আইনি বিরোধ বা প্রতারণা।

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকির একটি উদাহরণ

আসুন, ক্রিপ্টো লেনদেনে কাউন্টারপার্টির ঝুঁকির একটি উদাহরণ দেখা যাক। অ্যালিস একটি DeFi প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ববকে ইথার (ETH) ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লেনদেনের শর্তাবলী একটি স্মার্ট কন্ট্রাক্টে এইভাবে এনকোড করা হয়েছে: অ্যালিসের কাছ থেকে ETH-এ $700-এর ঋণ নেওয়ার জন্য সহায়ক জামানত হিসেবে বব $1,000 মূল্যের টোকেন A পোস্ট করে৷ 

এখন ধরা যাক মার্কেটে অস্থিরতার কারণে টোকেন A-এর মূল্য মারাত্মকভাবে কমে $500-এ নেমে আসে। যদি বব খেলাপি হয়, তবে অ্যালিসের ঝুঁকি থাকে তার $700-এর পুরোটা ফেরত না পাওয়ার কারণ সহায়ক জামানতের মূল্য এখন মাত্র $500।

বাস্তবে, এই ধরনের ঋণের চুক্তিতে তরলীকরণের অনুপাত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, স্মার্ট কন্ট্রাক্টটি এমনভাবে কোড করা যেতে পারে যেন টোকেন A-এর মূল্য $850-এ নেমে আসলে অ্যালিসের ক্ষতি এড়াতে ববের টোকেন A-কে তরলীকরণ করা হয়, কিন্তু সম্ভাবনা থেকে যায় যে তরলীকরণটি যথেষ্ট দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ার কারণে অ্যালিসকে তারপরও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। 

এটি হলো DeFi স্পেসে কাউন্টারপার্টির ঝুঁকির একটি উদাহরণ, যেখানে ঝুঁকিটি ঋণগ্রহীতার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থতার কারণে ঋণদাতার ক্ষতি বহন করার সম্ভাবনার সাথে জড়িত। 

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রথমত, ঋণযোগ্যতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। ঋণযোগ্যতা বলতে কোনো কাউন্টারপার্টির আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণের ক্ষমতাকে বোঝায়। সাধারণত ক্রেডিট রেটিং, আর্থিক বিবৃতি, ঋণের অনুপাত, নগদ প্রবাহের ধরণ এবং শিল্পক্ষেত্রের দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এটির মূল্যায়ন করা হয়। উচ্চ ঋণযোগ্যতা নির্দেশ করে যে কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি কম ও নিম্ন ঋণযোগ্যতা নির্দেশ করে যে ঝুঁকির মাত্রা বেশি।

বিবেচনাযোগ্য আরেকটি দিক হলো এক্সপোজারের ঘনত্ব। এক্সপোজারের ঘনত্ব বলতে একটি পক্ষ কোনো একক কাউন্টারপার্টি বা কাউন্টারপার্টির একটি ছোট গোষ্ঠীর উপর কতটা নির্ভরশীল তাকে বোঝায়। কাউন্টারপার্টির বৈচিত্র্যময়তা ঘনত্বের ঝুঁকি প্রশমিত করতে সাহায্য করে এবং কাউন্টারপার্টির সামগ্রিক ঝুঁকি কমায়। সাধারণত, ঝুঁকির অতিরিক্ত ঘনত্ব রোধ করতে প্রায়ই একটি একক কাউন্টারপার্টির জন্য 10% এক্সপোজার সীমা সুপারিশ করা হয়। তবে, এই সীমা বাস্তবে আরো বেশি বা কম হতে পারে।

উপরন্তু, চুক্তির শর্তাবলী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি প্রশমিত করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেমন সহায়ক জামানতের প্রয়োজনীয়তা, মার্জিন কল এবং অবসানের দফা। এই বিধানগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ঋণখেলাপের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর উপায় দেয়।

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক জামানতকরণ ঝুঁকি প্রশমনের একটি কার্যকর কৌশল। এর আওতায় সম্ভাব্য ক্ষতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে কাউন্টারপার্টিকে সহায়ক জামানত প্রদান করতে হয়, সাধারণত অ্যাসেটের রূপে, যেমন, নগদ বা সিকিউরিটিজ। ঋণখেলাপের ক্ষেত্রে ক্ষতি পূরণের জন্য সহায়ক জামানতটি তরল করা যেতে পারে।

কাউন্টারপার্টির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। কাউন্টারপার্টির আর্থিক স্বাস্থ্য ও ঋণযোগ্যতার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সতর্ক সংকেত ও সম্ভাব্য ঋণখেলাপের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। যদি কোনো রেড ফ্ল্যাগ দেখা দেয়, তবে এক্সপোজার হ্রাস করা, শর্তাদি পুনঃআলোচনা করা বা বিকল্প কাউন্টারপার্টি খোঁজার মতো সক্রিয় পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

DeFi ঋণ সম্পর্কে আরো জানুন: DeFi-তে ফ্ল্যাশ লোন কী?
পোস্ট শেয়ার করুন
একটি অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন
আজই একটি Binance অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে আপনার জ্ঞানের অনুশীলন করুন।