ব্লকচেইনের সুবিধা ও অসুবিধা
হোম
নিবন্ধ
ব্লকচেইনের সুবিধা ও অসুবিধা

ব্লকচেইনের সুবিধা ও অসুবিধা

প্রকাশিত হয়েছে Dec 12, 2018আপডেট হয়েছে Feb 9, 2023
5m

ব্লকচেইনের সুবিধা ও অসুবিধা

অধিকাংশ ব্লকচেইনই কোনো বিকেন্দ্রীভূত ডেটাবেজ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে যা একটি বণ্টিত ডিজিটাল লেজার হিসেবে কাজ করে। এই ব্লকচেইন লেজারগুলো ব্লকে ডেটা রেকর্ড করে এবং সঞ্চয় করে, যা একটি কালানুক্রমিক ক্রমানুসারে সংগঠিত হয় এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রমাণের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। ব্লকচেইন প্রযুক্তির সৃষ্টি বিভিন্ন ধরনের শিল্পে অনেক সুবিধা এনেছে যা আস্থাবিহীন পরিবেশে বর্ধিত নিরাপত্তা প্রদান করে। তবে, এর বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতির কিছু অসুবিধাও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথাগত কেন্দ্রীভূত ডেটাবেজের সাথে তুলনা করলে ব্লকচেইনের দক্ষতা সীমিত এবং অধিক স্টোরেজ ক্ষমতা প্রয়োজন।


সুবিধাদি


বিকেন্দ্রীভূত

ব্লকচেইন ডেটা প্রায়শই নোডের ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কে হাজার হাজার ডিভাইসে সংরক্ষিত হওয়ায় সিস্টেম এবং ডেটা প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা ও ক্ষতিকর আক্রমণের জন্য অত্যন্ত প্রতিরোধী। প্রতিটি নেটওয়ার্ক নোড ডেটাবেজের একটি কপি প্রতিলিপি ও সংরক্ষণ করতে পারে এবং এর কারণে কোনো সিঙ্গেল পয়েন্ট অব ফেইলিওর থাকে না: একটি নোড অফলাইনে গেলে তা নেটওয়ার্কের প্রাপ্যতা বা নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে না।

বিপরীতে, প্রচলিত অনেক ডেটাবেজ একটি একক বা কয়েকটি সার্ভারের উপর নির্ভর করে এবং প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা ও সাইবার-আক্রমণের ঝুঁকিপ্রবণ।

স্থিতিশীলতা

নিশ্চিত হওয়া ব্লকগুলো রিভার্স হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, অর্থাৎ একবার ব্লকচেইনে ডেটা নিবন্ধিত হয়ে গেলে এটি অপসারণ করা বা পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন। এটি ব্লকচেইনকে আর্থিক রেকর্ড বা অন্য কোনো ডেটা সংরক্ষণ করার জন্য একটি দুর্দান্ত প্রযুক্তি করে তোলে যেখানে প্রতিটি পরিবর্তন ডিস্ট্রিবিউটেড ও পাবলিক লেজারে স্থায়ীভাবে রেকর্ড হওয়ায় অডিট ট্রেইল প্রয়োজন হয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবসা তার কর্মীদের কাছ থেকে প্রতারণামূলক আচরণ প্রতিরোধ করতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, ব্লকচেইন কোম্পানির মধ্যে সংঘটিত সকল আর্থিক লেনদেনের একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল রেকর্ড সরবরাহ করতে পারে। এতে করে কোনো কর্মচারীর পক্ষে সন্দেহজনক লেনদেন লুকিয়ে রাখা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

আস্থাবিহীন সিস্টেম

অধিকাংশ প্রচলিত পেমেন্ট সিস্টেমে লেনদেন শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের উপর নির্ভর করে না, বরং একজন মধ্যস্থতাকারীর উপরও নির্ভর করে - যেমন একটি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, বা পেমেন্ট প্রোভাইডার। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় এটির আর প্রয়োজন হয় না কারণ নোডের ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক মাইনিং নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লেনদেন যাচাই করে। এই কারণে, ব্লকচেইনকে প্রায়ই 'আস্থাবিহীন' সিস্টেম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

অতএব, একটি ব্লকচেইন সিস্টেম কোনো একক সংস্থাকে বিশ্বাস করার ঝুঁকিকে অকার্যকর করে এবং মধ্যস্থতাকারী ও থার্ড পার্টিকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক খরচ ও লেনদেনের ফি কমিয়ে দেয়।


অসুবিধাসমূহ


51% আক্রমণ

বিটকয়েন ব্লকচেইনকে সুরক্ষা প্রদান করা প্রুফ অব ওয়ার্ক কনসেনসাস অ্যালগরিদম বিগত বছরগুলোতে অত্যন্ত দক্ষ বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে, সম্ভাব্য কিছু আক্রমণ আছে যা ব্লকচেইন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে করা যায় এবং 51% আক্রমণ সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এই ধরনের আক্রমণ ঘটতে পারে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক হ্যাশিং পাওয়ারের 50%-এর বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যার ফলে তারা অবশেষে ইচ্ছাকৃতভাবে লেনদেনের ক্রম বাদ দিয়ে বা পরিবর্তন করে নেটওয়ার্ককে ব্যাহত করতে পারে।

তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বিটকয়েন ব্লকচেইনে কখনোই সফল কোনো 51% আক্রমণ হয়নি। নেটওয়ার্ক বড় হওয়ার সাথে সাথে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় এবং মাইনারদের বিটকয়েন আক্রমণ করার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ ও সংস্থান বিনিয়োগ করবে এমন সম্ভাবনা কমে যায় কারণ তারা সততার সাথে কাজ করার জন্য আরও ভালোভাবে পুরস্কৃত হয়। তা ছাড়া, কোনো সফল 51% আক্রমণ শুধুমাত্র অল্প সময়ের জন্য সাম্প্রতিক লেনদেনগুলোকে মডিফাই করতে পারবে কারণ ব্লকগুলো ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রমাণের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে (পুরানো ব্লকগুলো পরিবর্তন করার জন্য অকল্পনীয় কম্পিউটিং শক্তির প্রয়োজন হবে)। এছাড়াও, বিটকয়েন ব্লকচেইন খুব স্থিতিস্থাপক এবং আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে।

ডেটার পরিবর্তন

ব্লকচেইন সিস্টেমের আরেকটি নেতিবাচক দিক হলো যে ব্লকচেইনে ডেটা একবার যোগ করা হলে তা পরিবর্তন করা খুবই কঠিন। স্থিতিশীলতা ব্লকচেইনের অন্যতম সুবিধা হলেও এটি সবসময় ভালো নয়। ব্লকচেইন ডেটা বা কোড পরিবর্তন করা সাধারণত খুব কঠিন এবং প্রায়শই হার্ড ফর্ক প্রয়োজন হয় যেখানে একটি চেইন পরিত্যাগ করে নতুন আরেকটি নেওয়া হয়।

প্রাইভেট কী

ব্লকচেইন ব্যবহারকারীদেরকে তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউনিটের (বা অন্য কোনো ব্লকচেইন ডেটার) মালিকানা দিতে পাবলিক-কী (বা অ্যাসিম্যাট্রিক) ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে। প্রতিটি ব্লকচেইন ঠিকানার সংশ্লিষ্ট প্রাইভেট কী থাকে। ঠিকানা শেয়ার করলেও প্রাইভেট কী গোপন রাখা উচিত। ব্যবহারকারীদের ফান্ড অ্যাক্সেস করার জন্য প্রাইভেট কী প্রয়োজন, যার অর্থ তারা তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। যদি কোনো ব্যবহারকারী তাদের প্রাইভেট কী হারায় তাহলে অর্থ কার্যত হারিয়ে যায় এ বিষয়ে আর কিছুই করার থাকে না।

অদক্ষ

ব্লকচেইন, বিশেষ করে প্রুফ অব ওয়ার্ক ব্যবহার করা ব্লকচেইন অত্যন্ত অদক্ষ। মাইনিং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতি দশ মিনিটে মাত্র একজন বিজয়ী হওয়ায় প্রতিটি মাইনারের কাজ নষ্ট হয়। মাইনাররা ক্রমাগত তাদের গণনা ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করায় তাদের একটি বৈধ ব্লক হ্যাশ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিটকয়েন নেটওয়ার্কের ব্যবহৃত রিসোর্স গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি বর্তমানে অনেক দেশের তুলনায় বেশি জ্বালানী খরচ করে, যেমন ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড এবং নাইজেরিয়া।

স্টোরেজ

ব্লকচেইন লেজারগুলো সময়ের সাথে সাথে খুব বড় হতে পারে। বিটকয়েন ব্লকচেইনের জন্য বর্তমানে প্রায় 200 জিবি স্টোরেজ প্রয়োজন। ব্লকচেইনের আকারের বর্তমান বৃদ্ধি হার্ড ড্রাইভের বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে এবং লেজার কোনো একজন ব্যক্তির ডাউনলোড ও স্টোর করার জন্য খুব বড় হয়ে গেলে নেটওয়ার্ক নোড হারানোর ঝুঁকি রয়ে যায়।


শেষ কথা

খারাপ দিক থাকা সত্ত্বেও ব্লকচেইন প্রযুক্তি কিছু ইউনিক সুবিধা উপস্থাপন করে এবং এটির অস্তিত্ব অবশ্যই অব্যহত থাকবে। মূলধারা গ্রহণের জন্য আমাদের এখনও একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, কিন্তু অনেক শিল্প ব্লকচেইন সিস্টেমের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো বুঝতে শুরু করেছে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি কোথায় সবচেয়ে বেশি ভ্যালু যোগ করে তা খুঁজে বের করতে ব্যবসা ও সরকারগুলো নতুন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আগামী কয়েক বছরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।

পোস্ট শেয়ার করুন
একটি অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন
আজই একটি Binance অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে আপনার জ্ঞানের অনুশীলন করুন।