ব্লকচেইনের ইতিহাস
হোম
নিবন্ধ
ব্লকচেইনের ইতিহাস

ব্লকচেইনের ইতিহাস

প্রকাশিত হয়েছে Dec 6, 2018আপডেট হয়েছে Dec 16, 2022
3m

ক্রিপ্টোকারেন্সির অন্তর্নিহিত প্রযুক্তি হলো ব্লকচেইন। এটি নেটওয়ার্কের প্রতিটি ক্লায়েন্টকে একে অপরকে বিশ্বাস না করেই ঐক্যমতে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়।


শুরুর দিনগুলো

ব্লকচেইন প্রযুক্তির মূল ধারণাটি 1991 সালের প্রথম দিকে বর্ণনা করা হয়েছিল যখন গবেষণা বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট হ্যাবার এবং ডব্লিউ. স্কট স্টরনেটা ডিজিটাল ডকুমেন্টের টাইম-স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য একটি গণনামূলকভাবে ব্যবহারিক একটি সমাধান নিয়ে আসেন যাতে করে সেগুলোকে অচল বা পরিবর্তন করা না যায়। 

সিস্টেমটি টাইম-স্ট্যাম্পড ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করার জন্য ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে সুরক্ষিত ব্লকের চেইন ব্যবহার করেছিল এবং 1992 সালে এই ডিজাইনে মার্কেল ট্রি যোগ করা হয় যা একটি ব্লকে একাধিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ করার সুযোগ দিয়ে এটিকে আরো দক্ষ করে তোলে। তবে, এই প্রযুক্তিটি অব্যবহৃত ছিল এবং বিটকয়েনের সূচনার চার বছর আগে 2004 সালে পেটেন্টটি বাতিল হয়ে যায়।


পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রুফ অব ওয়ার্ক

2004 সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক অ্যাক্টিভিস্ট হ্যাল ফিনি (হ্যারল্ড থমাস ফিনি II) RPoW, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রুফ অব ওয়ার্ক নামে একটি সিস্টেম চালু করেন। সিস্টেমটি এভাবে কাজ করত যে এটি একটি বিনিময়অযোগ্য বা একটি নন-ফাঞ্জিবল হ্যাশক্যাশ ভিত্তিক প্রুফ অব ওয়ার্ক টোকেন গ্রহণ করে এবং বিনিময়ে একটি RSA- স্বাক্ষরিত টোকেন তৈরি করে যা এরপরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ট্রান্সফার করা যায়। 

ফিনির RPoW সিস্টেম একটি বিশ্বস্ত সার্ভারে নিবন্ধিত টোকেনগুলোর মালিকানা রেখে দ্বিগুণ খরচের সমস্যার সমাধান করে, যে সার্ভার বিশ্বের যেকোনো জায়গায় ব্যবহারকারীদের রিয়েল টাইমে এটির সঠিকতা ও অখণ্ডতা যাচাই করার সুযোগ দিতে ডিজাইন করা হয়েছিল। 

RPoW-কে একটি প্রাথমিক প্রোটোটাইপ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।


বিটকয়েন নেটওয়ার্ক

2008 সালের শেষের দিকে একটি বিকেন্দ্রীভূত পিয়ার-টু-পিয়ার ইলেকট্রনিক ক্যাশ সিস্টেম - যাকে বিটকয়েন বলা হয় - প্রবর্তনকারী একটি হোয়াটপেপার সাতোশি নাকামোটো ছদ্মনাম ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একটি ক্রিপ্টোগ্রাফি মেইলিং তালিকায় পোস্ট করে।

হ্যাশক্যাশ প্রুফ অব ওয়ার্ক অ্যালগরিদমের উপর ভিত্তি করে, RPoW-এর মতো একটি হার্ডওয়্যার নির্ভর কম্পিউটিং ফাংশন ব্যবহার করার পরিবর্তে বিটকয়েনে দ্বিগুণ ব্যয় সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছিল লেনদেনগুলোকে ট্র্যাকিং ও যাচাই করার জন্য বিকেন্দ্রীভূত পিয়ার-টু-পিয়ার প্রোটোকল দিয়ে। সংক্ষেপে, বিটকয়েন একক মাইনারদের দ্বারা প্রুফ অব ওয়ার্ক পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যে "মাইন" করা হয় এবং তারপর নেটওয়ার্কের বিকেন্দ্রীভূত নোড দ্বারা যাচাই করা হয়।

3 জানুয়ারী 2009 সালে সাতোশি নাকামোতোর প্রথম মাইন করা বিটকয়েন ব্লকটির মাধ্যমে বিটকয়েন অস্তিত্বে আসে। তিনি 50টি বিটকয়েন পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিটকয়েনের প্রথম প্রাপক ছিলেন হ্যাল ফিনি, তিনি 12 জানুয়ারী 2009-এ বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন লেনদেনে সাতোশি নাকামোতো থেকে 10টি বিটকয়েন পেয়েছিলেন।


ইথেরিয়াম

তারপর 2013 সালে, প্রোগ্রামার ও বিটকয়েন ম্যাগাজিনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিটালিক বুটেরিন বলেন যে বিকেন্দ্রীভূত অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য বিটকয়েনের একটি স্ক্রিপ্টিং ভাষা প্রয়োজন। তিনি একটি নতুন ব্লকচেইন-ভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের ডেভলপমেন্ট শুরু করেন ইথেরিয়াম নামে যেটির একটি স্ক্রিপ্টিং ফাংশনালিটি রয়েছে, যে ফাংশনালিটিকে বলা হয় স্মার্ট কন্ট্রাক্ট।

স্মার্ট কন্ট্রাক্ট হলো ইথেরিয়াম ব্লকচেইনে সংরক্ষিত, ডেপ্লয় ও এক্সিকিউট করা প্রোগ্রাম বা স্ক্রিপ্ট। এগুলোকে উদাহরণস্বরূপ কোনো লেনদেন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে যখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হবে। স্মার্ট কন্ট্রাক্ট নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষায় লেখা হয় এবং বাইটকোডে কম্পাইল করা হয় যেটিকে একটি বিকেন্দ্রীভূত টুরিং-কমপ্লিট ভার্চুয়াল মেশিন যাকে বলা হয় ইথেরিয়াম ভার্চুয়াল মেশিন (EVM) তারপর রিড ও এক্সিকিউট করতে পারে।

ডেভেলপাররা ইথেরিয়াম ব্লকচেইনের মধ্যে চলা অ্যাপ্লিকেশনগুলো তৈরি ও রিলিজও করতে পারে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে সাধারণত DApps (বিকেন্দ্রীকৃত অ্যাপ্লিকেশন) হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম, জুয়া খেলার অ্যাপ্লিকেশন এবং আর্থিক বিনিময়সহ ইথেরিয়াম ব্লকচেইনে ইতোমধ্যেই শত শত DApp চলছে।

ইথেরিয়ামের ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ইথের বলা হয়, এটি অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ট্রান্সফার করা যায় এবং স্মার্ট কন্ট্রাক্ট এক্সিকিউট করার সময় ব্যবহৃত গণনামূলক শক্তির জন্য ফি পরিশোধ করতে ব্যবহৃত হয়।

আজ ব্লকচেইন প্রযুক্তি মূলধারার অনেক মনোযোগ অর্জন করছে এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে ইতোমধ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্লকচেইন ও অন্যান্য আকর্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য Binance অ্যাকাডামিতে আমাদের অন্যান্য ভিডিও দেখতে ভুলবেন না।