ব্লকচেইন ট্রিলেমা কী?
সুচিপত্র
ভূমিকা
বিকেন্দ্রীকরণ কী?
ব্লকচেইন নিরাপত্তা কী?
স্কেলেবিলিটি কী?
ব্লকচেইন ট্রিলেমা কেন ঘটে
ব্লকচেইন ট্রিলেমা সমাধান করা
শেষ কথা
ব্লকচেইন ট্রিলেমা কী?
হোম
নিবন্ধ
ব্লকচেইন ট্রিলেমা কী?

ব্লকচেইন ট্রিলেমা কী?

প্রকাশিত হয়েছে Oct 14, 2022আপডেট হয়েছে Nov 11, 2022
9m

TL;DR

ব্লকচেইন প্রতি সেকেন্ডে শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক লেনদেন পরিচালনা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিটকয়েন নেটওয়ার্ক প্রতি সেকেন্ডে প্রায় সাতটি লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি যদি বিশ্বব্যাপী গৃহীত হতে হয়, তাহলে এটিকে আরো বেশি ডেটা পরিচালনা করতে সক্ষম হতে হবে এবং সেটি করতে হবে দ্রুত গতিতে, যাতে আরো বেশি লোক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে যাতে এটি ব্যবহার করা খুব ধীরগতির বা ব্যয়বহুল না হয়। তবে, অনেক বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মৌলিক ডিজাইনের অর্থ হলো ক্রমবর্ধমান স্কেলেবিলিটি বিকেন্দ্রীকরণ বা নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দেয়। এটিই ব্লকচেইন ট্রিলেমা নামে পরিচিত। যেসব ডেভলপার এই সমস্যাটি সমাধান করতে চাইছেন তারা বিভিন্ন কনসেনশাস প্রক্রিয়া এবং স্কেলেবিলিটি সমাধানগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, যেমন শার্ডিং, সাইডচেইন এবং স্টেট চ্যানেল।

ভূমিকা

মৌলিক পরিভাষায়, ব্লকচেইন হলো একটি বিতরণকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস। ডেটার ব্লকগুলো কালানুক্রমে সাজানো থাকে। ব্লকগুলো ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রমাণ দ্বারা সংযুক্ত এবং সুরক্ষিত থাকে। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই আমাদের কাজ ও জীবনযাপন ধারাকে পরিবর্তিত করছে। 

ধারণাটি হলো, বিকেন্দ্রীকৃত এবং সুরক্ষিত ব্লকচেইনগুলো এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলার ব্যবস্থা করে যেখানে আমাদের নেটওয়ার্ক বা মার্কেটের পক্ষে ফাংশন করার জন্য তৃতীয় পক্ষের উপর নির্ভর করতে হবে না। তবে, বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে এই মর্মে একমত যে, যদি এই প্রযুক্তিটি আরো ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয় তবে সেক্ষেত্রে একটি মৌলিক সমস্যা রয়েছে যা সমাধান করা দরকার। আলোচ্য সমস্যাটি "ব্লকচেন ট্রিলেমা" নামে পরিচিত।

ইথেরিয়ামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা Vitalik Buterin এই শব্দটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এটি বোঝার জন্য, আপনাকে ব্লকচেইনের দরকারি তিনটি ভিন্ন উপাদান সম্পর্কে জানা থাকতে হবে: বিকেন্দ্রীকরণ, নিরাপত্তা এবং স্কেলেবিলিটি। ব্লকচেইন ট্রিলেমা বলতে বোঝায় যে, ব্লকচেইনের পক্ষে একই সাথে তিনটি বৈশিষ্ট্যের সর্বোত্তম মাত্রা অর্জন করা কঠিন। একটি বাড়ালে সাধারণত আরেকটি দুর্বল হয়ে যায়।

এই নিবন্ধে ট্রিলেমার তিনটি উপাদান খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রত্যেকটির সম্পর্কে আরো বিশদে ব্যাখ্যা করা হবে। প্রত্যেকটিকে আরো গভীরভাবে আলোচনা করা হবে এবং কিভাবে সেগুলো একসাথে খাপ খায়, এর ফলে ব্লকচেইন ট্রিলেমা কিভাবে এবং কেন বিদ্যমান থাকে সে সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বোঝা যাবে। এই নিবন্ধটিতে ডেভেলপারদের দ্বারা প্রস্তাবিত সমাধানগুলোর কয়েকটির উপর আলোকপাত করা হবে।

বিকেন্দ্রীকরণ কী?

বিটকয়েন এবং অনুরূপ ব্লকচেইন নেটওয়ার্কগুলো সেগুলোর ডিজাইনের কারণেই বিকেন্দ্রীকৃত। পুরো কাঠামোটি এমন যে সেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। বরং তা বিকেন্দ্রীকৃত। যারা অংশগ্রহণ করতে চান তাদের জন্য নেটওয়ার্ক লেয়ার উন্মুক্ত থাকে। ফলস্বরূপ, নিয়ন্ত্রণ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন থাকার পরিবর্তে তা সম্পূর্ণরূপে বিতরণকৃত অবস্থায় থাকে। সবার পক্ষেই সমান মাত্রায় ডেটা অ্যাক্সেস আছে। যদি কেউ রেকর্ড তাদের অনুকূলে পরিবর্তন করে সিস্টেমের সাথে প্রতারণা করার চেষ্টা করে, তাহলে বাকি অংশগ্রহণকারীরা ত্রুটিপূর্ণ তথ্য প্রত্যাখ্যান করবে।

এটি অনেকটাই কৌশলগত আলোচনা হতে পারে, তবুও উদাহরণ হিসাবে বিটকয়েন নেটওয়ার্কের কথা ধরা যাক। এটি কোনো তৃতীয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যাংকের গুরুত্ব যেমন তার সাথে এটির তুলনা করা চলে। ব্যাংকগুলো লেনদেনকারী লোকেজনের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলে এবং নিশ্চিত করে যে সমস্ত হিসাবাদি সঠিকভাবে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিটকয়েন ব্লকচেইন সেই সমস্ত ডেটা নেটওয়ার্কের সকলের সাথে শেয়ার করে, যাতে ডিজিটাল ডাটাবেসে যোগ করার আগে এটি যাচাই করা এবং নিশ্চিত করা যায়। ফলে এটি এমন একটি সিস্টেম হয়ে ওঠে যা তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজনীতা ছাড়াই বিদ্যমান থাকতে পারে।

বিকেন্দ্রীকরণ সেই সম্ভাবনার প্রস্তাব দেয় যা Web3 নামে পরিচিত। এই মুহূর্তে আমাদের আছে Web2 — আজকের দিনের ইন্টারনেট। এটি কোম্পানি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সাইট এবং অ্যাপে পূর্ণ, কিন্তু ব্যবহারকারীদের দ্বারা তৈরি কন্টেন্ট দিয়ে সাজানো। Web3 হলো পরবর্তী ধাপ। এটি এমন একটি ইন্টারনেট যেখানে বিকেন্দ্রীভূত ব্লকচেইন প্রযুক্তি মানুষকে তাদের নিজস্ব ডেটা এবং অনলাইন জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দেয়। 

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই বিতরণকৃত সিস্টেমগুলোর কাজের ধরনের কারণে — যেকোনো ডেটার বৈধতার বিষয়ে বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীদের সম্মত হওয়ার আবশ্যকতার কারণে — তথ্য শেয়ার করা ও প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতিটির কারণে লেনদেনের সময় ধীর হতে পারে। এবং সে কারণে, ব্লকচেইনগুলোকে স্কেল করতে হয়, যার অর্থ হলো দ্রুত গতিতে আরো ডেটা পরিচালনা করতে সক্ষম করতে হয়। স্কেলেবিলিটি নিয়ে আলোচনা করার সময় আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে আবার বলবো।

এছাড়াও, বিকেন্দ্রীভূত স্বপ্ন কেবল তখনই টিকে থাকে যখন অন্তর্নিহিত ব্লকচেইনগুলো সুরক্ষিত থাকে। যদি কোনো ব্লকচেইনে নিরাপত্তার অভাব থাকে, তাহলে কোনো দুস্কৃতিকারী সেটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং ডেটাকে তাদের অনুকূলে পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এখানেই চলে আসে ট্রিলেমার দ্বিতীয় অংশের কথা: নিরাপত্তা।

ব্লকচেইন নিরাপত্তা কী?

নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে কোনো ব্লকচেইন কতটা বিকেন্দ্রীকৃত তাতে কিছু এসে যায় না। একটি ভালো ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ক্ষতিকারক প্রতিষ্ঠানের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত হতে হবে। কেন্দ্রীভূত সিস্টেমগুলোর নিরাপত্তার মূলসূত্র হলো এই যে সিস্টেমটি ক্লোজড হয়ে থাকে। যারা নিয়ন্ত্রণে থাকে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারে যে ডেটা হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত। কিন্তু একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় যেখানে যে কেউ অংশ নিতে পারে সেখানে এটি কিভাবে অর্জিত হবে?

এটি একটি জটিল বিষয়, কিন্তু আমরা বিকেন্দ্রীকৃত ব্লকচেইন নিরাপত্তার উদাহরণ হিসেবে বিটকয়েনে ফিরে যেতে পারি। বিটকয়েন ব্লকচেইন ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং প্রুফ অব ওয়ার্ক (PoW) নামে একটি নেটওয়ার্ক কনসেনসাস কৌশলের সংমিশ্রণ ব্যবহার করে। ক্রিপ্টোগ্রাফির ক্ষেত্রে, প্রতিটি ব্লকে এক ধরনের ডিজিটাল স্বাক্ষর (বা হ্যাশ) থাকে। ডেটার প্রতিটি ব্লক এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যা ঘষামাজা করা যায় না কারণ যেকোনো পরিবর্তন একটি ব্লকের হ্যাশকে পরিবর্তন করে ফেলবে। ডেটা পরিবর্তন করার যে কোনো প্রচেষ্টাকে নেটওয়ার্কের বাকিরা বুঝে ফেলবে।

PoW কনসেনশাস কৌশল ধাঁধাটির আরেকটি অংশ। এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির লেজার সুরক্ষিত করতে সাহায্য করে। প্রুফ অব ওয়ার্ক বিষয়ে বলতে গেলে একটি সম্পূর্ণ নিবন্ধ প্রয়োজন, তবে এখনকার মতো, মনে রাখবেন যে নেটওয়ার্কের সদস্যরা শুধুমাত্র নতুন লেনদেন যাচাই করতে পারেন এবং মাইনিং নামে পরিচিত কার্যাবলীর মাধ্যমে সেগুলোকে লেজারে যোগ করতে পারেন। গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য এটি গণনা শক্তি ব্যবহার করে। প্রক্রিয়াটির একটি অংশে এই কম্পিউটারগুলোকে অসংখ্য হ্যাশিং ফাংশন সম্পাদন করতে হয়। এটি স্কেলেবিলিটির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে, কারণ PoW প্রক্রিয়াটি নিরাপদ হলেও তুলনামূলক ধীরগতির।

এছাড়াও মনে রাখবেন যে, নেটওয়ার্কে যত বেশি অংশগ্রহণকারী (নোড) থাকবে, এটি তত বেশি নিরাপদ হবে। পক্ষগণের সংখ্যা যত বেশি হবে, কোনো দুস্কৃতিকারীর পক্ষে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তত কঠিন হয়ে হবে। এটি 51% আক্রমণ হিসাবে পরিচিত ঘটনাটির সাথে সম্পর্কিত। মোটকথা: যদি কোনো একক প্রতিষ্ঠান (বা দুস্কৃতিকারী দল) কোনো ব্লকচেইনের মোট নেটওয়ার্ক হ্যাশিং হারের 50% এর বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তারা কনসেনশাসকে ওভাররাইড করতে এবং নিজেদের সুবিধার জন্য চেইনের ডেটা পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে, যেমন দ্বিগুণ ব্যয় টোকেন। 

সংক্ষেপে, একটি ব্লকচেইন সফল হওয়ার জন্য নিরাপত্তা একটি মৌলিক শর্ত কারণ, এটি ছাড়া, আক্রমণকারীরা চেইনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, এটিকে অকেজো করে দিতে পারে।

স্কেলেবিলিটি কী?

স্কেলেবিলিটি বলতে একটি ব্লকচেইন তৈরির লক্ষ্যকে বোঝায় যা প্রতি সেকেন্ডে আরো বেশি লেনদেন সাপোর্ট করতে পারে। ব্লকচেইন প্রযুক্তিকে যদি বৃহত্তর সমাজে এবং সম্ভবত কোটি কোটি ব্যবহারকারীদের সেবা দিতে হয় তাহলে স্কেল প্রয়োজন। কিন্তু ঠিক এখানেই অনেক ব্লকচেইন এখনও পেরে উঠছে না। 

এর কারণ হলো বিকেন্দ্রীকরণ এবং নিরাপত্তা ব্লকচেইনের জন্য এতটাই মৌলিক যে তারা সেগুলোর দিকেই প্রথমে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা রাখে। বিকেন্দ্রীকরণ ব্লকচেইনের নীতি এবং লক্ষ্যগুলোর জন্য এতটাই কেন্দ্রীয় বিষয় যে এটি বেশিরভাগ স্বীকৃত ব্লকচেইনের একেবারে মূল অন্তর্নিহিত বিষয়। যেমনটি আমরা আলোচনা করেছি, একটি ব্লকচেইনের পক্ষে সফল এবং ব্যবহারযোগ্য হওয়ার জন্য মূল আবশ্যকতা হলো নিরাপত্তা।

তবে, বিকেন্দ্রীকরণ এবং নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে গেলে, স্কেলেবিলিটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একটি চেইন যে পরিমাণ লেনদেন পরিচালনা করতে পারে সেটির সংখ্যা গুরুতরভাবে সীমিত হতে পারে। ভিসার মতো কেন্দ্রীভূত পেমেন্ট সিস্টেম থেকে জানা যায় যে, এটি প্রতি সেকেন্ডে 24,000 লেনদেন সাপোর্ট করতে পারে। এর কারণ হলো নেটওয়ার্কটি ক্লোজড এবং পাবলিক নোড ও কনসেনশাসের মতো বিবেচনা থেকে মুক্ত। কিছু বিখ্যাত ব্লকচেইনের সাথে এটির তুলনা করুন। 

2022 সালে ব্লুমবার্গের মতে: "সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিটকয়েন প্রতি সেকেন্ডে সাতটির বেশি লেনদেন পরিচালনা করতে অক্ষম ছিল এবং দ্বিতীয় সেরা জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক ইথেরিয়াম প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 15-তে সীমাবদ্ধ ছিল — যা প্রচলিত এক্সচেঞ্জের সাপেক্ষে একটি জীবনচক্র।"

বর্ণিত হিসেবে, বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক গঠনকারী বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীর দ্বারা তথ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজনীয়তার কারণে এবং PoW কনসেনশাস প্রক্রিয়ার প্রকৃতির কারণে এই ব্লকচেইন লেনদেনের গতি সীমিত। যদি সমাজের আরো বেশি সংখ্যক লোক ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু করে, তাহলে সীমিত সংখ্যক লেনদেনের কারণে নেটওয়ার্কগুলো জ্যাম হয়ে যাবে।

ব্লকচেইন ট্রিলেমা কেন ঘটে

উপরে বর্ণিত সমস্যার সবচেয়ে সুস্পষ্ট এবং মৌলিক সমাধান হলো বৃহত্তর স্কেল এবং গতির পরিবর্তে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা হ্রাস করে নেটওয়ার্ক ডেটা নিশ্চিত ও উন্নত করা। কিন্তু সেটি করার ফলে অল্প সংখ্যক অংশগ্রহণকারীদের নিয়ন্ত্রণাধীনে বিকেন্দ্রীকরণ দুর্বল হয়ে পড়বে। এবং এ থেকে নিরাপত্তার দুর্বলতা দেখা দেবে কারণ কম প্লেয়ার থাকার অর্থ হলো আক্রমণের উচ্চ সম্ভাবনা।

সুতরাং এখানে ট্রিলেমা রয়েছে: বিকেন্দ্রীকরণ এবং নিরাপত্তার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এই সংযোগ থাকায়, ব্লকচেইনের কাজের মৌলিক ডিজাইনের কারণে এটিকে স্কেল করা কঠিন হয়ে পড়ে। একটিকে বাড়ালে অন্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিকেন্দ্রীকরণ, নিরাপত্তা বা উভয়ের ক্ষতি না করে আপনি কিভাবে স্কেলেবিলিটি উন্নত করবেন? 

ব্লকচেইন ট্রিলেমা সমাধান করা

ট্রিলেমাটির কোনো যুৎসই সমাধান নেই। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের গুরুত্বের কারণে, কমিউনিটির মধ্যে আগ্রহোদ্দীপক ফলাফলসহ বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি চালু আছে। চারপাশে কী ঘটছে তা বোঝার জন্য আসুন কিছু জনপ্রিয় বিকাশের ঘটনা দেখে নেওয়া যাক:

1. শার্ডিং

এটি ব্লকচেইনগুলোকে (বা অন্যান্য ধরনের ডেটাবেসকে) ক্ষুদ্র, বিভাজিত ব্লকচেইনে বিভক্ত করার পদ্ধতি যা নির্দিষ্ট ডেটার নির্দিষ্ট সেগমেন্টকে পরিচালনা করে। এই সেটআপটি একটি নেটওয়ার্কে সবগুলো লেনদেন এবং মিথস্ক্রিয়া সামলানোর জন্য কোনো একক চেইনের উপর থেকে চাপ দূর করে। প্রতিটি বিভাজিত ব্লকচেইন একটি শার্ড হিসাবে পরিচিত এবং এর নির্দিষ্ট লেজার রয়েছে। এই শার্ডগুলো তখন তাদের নিজস্ব লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারে, তবে একটি বিকন ব্লকচেইন বা মেইন চেইন শার্ডগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া পরিচালনা করে। এটি একটি লেয়ার 1 নেটওয়ার্ক স্কেলেবিলিটি আপগ্রেড শার্ডিং করে, কারণ এটি একটি ব্লকচেইনের মেইননেটের পরিবর্তন।

2. বিভিন্ন ধরনের কনসেনশাস পদ্ধতি

বিটকয়েন নেটওয়ার্কে ট্রিলেমা বিদ্যমান থাকার একটি কারণ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে PoW-এর কাজ করার পদ্ধতি। মাইনার, ক্রিপ্টো অ্যালগরিদম এবং বিপুল পরিমাণ বিকেন্দ্রীভূত গণনা শক্তির আবশ্যকতার কারণে এটি একটি সুরক্ষিত কিন্তু ধীরগতির সিস্টেম হয়ে ওঠে। ট্রিলেমা সমাধানের একটি পদ্ধতি হলো কনসেনশাস সুরক্ষিত করার জন্য ভিন্ন কোনো উপায় খুঁজে বের করা। ইথেরিয়ামের PoW থেকে প্রুফ অব স্টেক (PoS)-এ চলে যাওয়ার পেছনে এটি ছিল অন্যতম কারণ।

PoS ব্লকচেইনে, লেনদেন ভ্যালিডেট করার সাথে জড়িত অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই তাদের টোকেনগুলো স্ট্যাক (লক) করতে হয়। একেবারে বিশেষায়িত মাইনিং মেশিনের প্রয়োজন হয় না। নেটওয়ার্কে আরো ভ্যালিডেটর যোগ করা সহজ ও অধিক অ্যাক্সেসযোগ্য। PoS হলো স্কেলেবিলিটির কথা মাথায় রেখে করা কনসেনশান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি। 

3. লেয়ার-2 সমাধান

উভয় শার্ডিং এবং বিভিন্ন কনসেনশাস প্রক্রিয়াই লেয়ার-1 সমাধান হিসেবে পরিচিত। সেগুলোর লক্ষ্য হলো অন্তর্নিহিত নেটওয়ার্কের মৌলিক ডিজাইন পরিবর্তন করা। কিন্তু ট্রিলেমা সমাধান করতে চাইছেন এমন অন্যান্য ডেভেলপাররা এমনসব সমাধান নিয়ে কাজ করছেন যা বিদ্যমান নেটওয়ার্ক কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি। অন্য কথায়, তারা মনে করেন সমাধানটি রয়েছে দ্বিতীয় লেয়ার বা লেয়ার 2-এ। এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইডচেইন এবং স্টেট চ্যানেল

সাইডচেইন মূলত মেইন চেইনের সাথে সংযুক্ত একটি পৃথক ব্লকচেইন। এটি এমনভাবে সেট আপ করা হয়েছে যাতে অ্যাসেট দুটির মধ্যে অবাধে প্রবাহিত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাইডচেইন বিভিন্ন নিয়মের অধীনে কাজ করতে পারে, যা অপেক্ষাকৃত বেশি গতি এবং স্কেলের সুযোগ এনে দেয়। একইভাবে, স্টেট চ্যানেল হলো মেইন চেইন থেকে লেনদেন সরিয়ে নেওয়ার এবং লেয়ার 1-এর উপর চাপ কমানোর আরেকটি উপায়। একটি স্টেট চ্যানেল ব্লকচেইনে লেনদেন প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীদেরকে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম করার জন্য একটি পৃথক চেইনের পরিবর্তে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ব্যবহার করে। ব্লকচেইন শুধুমাত্র চ্যানেলের শুরু এবং শেষটা রেকর্ড করে।

শেষ কথা

স্কেলেবিলিটি ট্রিলেমা বিশ্বকে পরিবর্তন করার প্রযুক্তি হিসেবে সম্ভাবনা পূর্ণ করার পথে ব্লকচেইনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্লকচেইনকে যদি নেটওয়ার্ক বিকেন্দ্রীকরণ এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতি সেকেন্ডে অল্প সংখ্যক লেনদেন পরিচালনা করতে হয়, তাহলে গণহারে ব্যবহার করার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। তবে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডেভেলপারদের দ্বারা বর্তমানে যে সমাধানগুলো দেওয়া হয়েছে তা থেকে বোঝা যায় যে ব্লকচেইন দ্বারা ইতিমধ্যে অর্জিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলোই কেবল অব্যাহত থাকবে এবং এই নেটওয়ার্কগুলো ভবিষ্যতে আরো অনেক ডেটা পরিচালনা করতে সক্ষম হতে পারে।