একের অধিক মেটাভার্স থাকা কি সম্ভব?
সুচিপত্র
ভূমিকা
মেটাভার্স কী?
মেটাভার্সে কী করা যাবে?
শুধু কি একটি মেটাভার্সই আছে?
মেটাভার্সের ভবিষ্যত ওয়েব
শেষ কথা
একের অধিক মেটাভার্স থাকা কি সম্ভব?
হোম
নিবন্ধ
একের অধিক মেটাভার্স থাকা কি সম্ভব?

একের অধিক মেটাভার্স থাকা কি সম্ভব?

প্রকাশিত হয়েছে Sep 14, 2022আপডেট হয়েছে Dec 23, 2022
5m

TL;DR

মেটাভার্স হলো একটি অনলাইন, মগ্নকারী স্থান, যা এর ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল এবং বাস্তব-বিশ্বের জীবনকে সংযুক্ত করে। অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং ব্লকচেইনের মতো প্রযুক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত করে, মেটাভার্স কাজ, সামাজিকীকরণ এবং শিথিল করার নতুন ডিজিটাল উপায় প্রদান করে। 

ডিসেন্ট্রাল্যান্ড এবং সেকেন্ডলাইভ এর মতো প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যেই প্লে-টু-আর্ন গেম এবং অন্যান্য ব্লকচেইন অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, যা কমিউনিটিগুলোকে একসাথে জড়ো হতে, কাজ করতে এবং সাধারণ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম করে৷ এছাড়াও, বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রচলিত ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তাদের মেটাভার্স তৈরি করছে।

যদিও অনেক মেটাভার্স হতে পারে, তবে সেগুলো যদি একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়, তবে সবগুলোই উপকৃত হবে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি মেটাভার্স ইন্টারঅপারেবিলিটির একটি অনন্য উপায় প্রদান করে। এটি ব্যবহারকারীদের মেটাভার্সের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিভিন্ন আইটেম এবং অন্যান্য ডিজিটাল অ্যাসেট স্থানান্তর করতে সক্ষম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভূমিকা

প্রযুক্তি, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করার সময় লোকজন যে শব্দগুলো উল্লেখ করে তার মধ্যে মেটাভার্স হলো একটি। মেটাভার্স এখনও সম্পূর্ণরূপে উপস্থিত নেই, তবে এটি লক্ষণীয় যে ছোট ছোট প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলো ডিজিটাল স্থানগুলোর ভবিষ্যত তৈরি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।

মেটাভার্স কী?

মেটাভার্স হলো সংযুক্ত, ভার্চুয়াল মহাবিশ্বগুলো একটি ধারণা, যা 3D অবতারের মাধ্যমে অন্বেষণযোগ্য। আপনি আরো নিমগ্ন এবং ইন্টারেক্টিভ অনলাইন অভিজ্ঞতা সহ একে ইন্টারনেটের পরবর্তী বিবর্তন হিসেবে ভাবতে পারেন।

মেটাভার্স অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং ব্লকচেইনের মতো প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও AR ব্যবহারকারীদের একটি ক্যামেরা ব্যবহার করে ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলোকে বাস্তব জগতে রূপ দিতে সক্ষম করে, তবে VR কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রস্তুত ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি করে যা ব্যবহারকারীরা VR হেডসেটের মাধ্যমে অন্বেষণ করে। ইতোমধ্যে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি মালিকানার ডিজিটাল প্রমাণ, ডিজিটাল সংগ্রহযোগ্যতা এবং মূল্য স্থানান্তরের বৈশিষ্ট্যগুলোকে সক্ষম করেছে।

 Binance NFT মার্কেটপ্লেসের মতো NFT প্ল্যাটফর্মগুলোও গেমিং প্রকল্প এবং ক্রিপ্টো কমিউনিটিগুলোর মধ্যে সংযোগ প্রদান করে গেমিং মেটাভার্সের বিকাশে অবদান রাখছে। এছাড়াও, কমিউনিটি-চালিত BNB স্মার্ট চেইন (BSC) বিভিন্ন মেটাভার্স প্রকল্পের আয়োজন করে। এছাড়াও, Fortnite একটি মেটাভার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যা তার ভার্চুয়াল জগতে 350 মিলিয়নেরও বেশি খেলোয়াড়কে সংযুক্ত করেছে।

যদিও মেটাভার্স এখনও বিকাশাধীন, তবে সম্ভবত এর বিকাশ গেমিং প্ল্যাটফর্ম থেকেও আরো বিস্তৃত হবে। উদাহরণস্বরূপ, ডিজিটাল পরিচিতি, রিমোট ওয়ার্কিং এবং বিকেন্দ্রীভূত পরিচালনার অ্যাপ্লিকেশনগুলো হলো কিছু সম্ভাব্য খাত, যা মেটাভার্স থেকে উপকৃত হতে পারে।

মেটাভার্সে কী করা যাবে?

মেটাভার্স ভাগ করা ভার্চুয়াল স্পেস তৈরি করে, যা ভৌত এবং ডিজিটালকে একত্রিত করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো VR হেডসেট ব্যবহার করে মিশ্র রিয়েলিটি মিটিং আয়োজন করার জন্য বা একই জায়গায় শারীরিকভাবে না থেকেই চুক্তি স্বাক্ষর করতে মেটাভার্স ব্যবহার শুরু করতে পারে।

একইভাবে, আপনি ভার্চুয়াল করিডোরগুলোর সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রোসারি করতে পারেন, ভার্চুয়াল বন্ধুদেরকে আপনার NFT সংগ্রহগুলো প্রদর্শন করতে পারেন এবং আপনার বাড়িতে থাকার আরাম বিসর্জন না দিয়েই শিল্পকর্মের প্রদর্শনী দেখতে পারেন।

অ্যাক্সি ইনফিনিটি (Axie Infinity) এর মতো আয়-করতে-খেলুন গেম এবং Gather.town-এর মতো কাজের সামাজিকীকরণের সরঞ্জামগুলো ইতোমধ্যেই ভার্চুয়াল জগতের সম্ভাব্য কাজের দিকগুলো প্রমাণ করে। সেগুলো ব্যবহারকারীদের মজা করতে, মানুষের সাথে দেখা করতে, ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে লেনদেন করতে এবং এমনকি জীবিকা অর্জনের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

অন্যদিকে, ডিসেন্ট্রাল্যান্ড হলো একটি অনলাইন, ডিজিটাল বিশ্ব, যা সফলভাবে সামাজিক উপাদানগুলোকে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং NFT-এর সাথে মিশ্রিত করে, যা কসমেটিক সংগ্রহযোগ্য থেকে ভার্চুয়াল রিয়েল এস্টেট পর্যন্ত যেকোনো কিছুর প্রতিনিধিত্ব করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন খেলোয়াড় ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের নেটিভ ক্রিপ্টোকারেন্সি, MANA, ব্যবহার করে 16x16 মিটার ভূখণ্ড কিনতে পারেন, যা ইথেরিয়াম ব্লকচেইনে NFTs (নন-ফাঞ্জিবল টোকেন) হিসেবে ইস্যু করা হয়।

সবশেষে, মেটাভার্স মানব সমষ্টিকে ভাগাভাগি করা আগ্রহের দিকে জড়ো করতে সক্ষম করে। উদাহরণস্বরূপ, Fortnite বিশ্বব্যাপী 12 মিলিয়ন শ্রোতার সাথে ট্র্যাভিস স্কটের ভার্চুয়াল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল কনসার্টটি বিখ্যাতভাবে আয়োজন করেছে। একটি নিয়মিত কনসার্টের বিপরীতে, গেমাররা বিখ্যাত র‍্যাপারদের অবতারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং অ্যানিমেটেড, 3D ভিজ্যুয়াল উপভোগ করতে পারেন।

শুধু কি একটি মেটাভার্সই আছে?

মেটাভার্স ধারণাটি পরামর্শ দেয় যে, সবাই শেয়ার করার মতো একটি সাধারণ ও ভাগাভাগি করা ভার্চুয়াল গ্রাউন্ড রয়েছে। কিন্তু, আমরা যেমনটি দেখেছি, বিভিন্ন মেটাভার্স থাকতে পারে, যাদের একটি অপরটির থেকে আলাদা।

তাই মেটাভার্সের সমষ্টিতে প্রতিটি মেটাভার্সের একটি নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমনিভাবে তার ব্যবহারকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিষেবা প্রদান করে, ঠিক তেমনি মেটাভার্সগুলো সুস্পষ্ট ভার্চুয়াল সম্ভাবনা অফার করে। আগের উদাহরণের মতোই, একটি মেটাভার্স গেমিংয়ে মনোযোগ দিতে পারে এবং অন্যগুলো মিটআপ বা কনসার্টে মনোযোগী হতে পারে।

আক্সি ইনফিনিটি, ডিসেন্ট্রাল্যান্ড এবং সেকেন্ডলাইভ-এর মতো ক্রিপ্টো মেটাভার্স প্রকল্পগুলোর প্রত্যেকেরই মেটাভার্স তৈরির জন্য নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। ব্লকচেইন-ভিত্তিক মেটাভার্সের পাশাপাশি, বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেটাভার্স ন্যারেটিভ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক তার নাম পরিবর্তন করে মেটা (Meta) রেখেছে এবং মেটাভার্স কন্টেন্ট, সফটওয়্যার এবং AR ও VR হেডসেট তৈরিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। একইভাবে, মাইক্রোসফট, গুগল এবং টেনসেন্টের মতো বড় কোম্পানিগুলো মেটাভার্স তৈরি করছে এবং নতুন প্রযুক্তি বিকাশের মাধ্যমে এই জগতে প্রবেশ করছে।

আদর্শভাবে, ভিন্ন ভিন্ন মেটাভার্স আন্তঃক্রিয়াশীল হওয়া উচিত। মেটাভার্সের আন্তঃক্রিয়াশিলতা বা ইন্টারঅপারেবিলিটি মানে এক বা একাধিক মেটাভার্স সহজে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে এবং ডেটা বিনিময় করতে পারে। আন্তঃক্রিয়াশীল মেটাভার্স ব্যবহারকারীদেরকে এক মেটাভার্স থেকে অন্য মেটাভার্সে NFT ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সহ অ্যাসেট স্থানান্তর করার সুযোগ দেবে।

অনেক ডেভেলপার এবং প্রোটোকল মেটাভার্স সংযোগ করতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর পণ করেছে। প্রথমত, এটি হচ্ছে বিকেন্দ্রীভূত ও স্বচ্ছ। এবং দ্বিতীয়ত, এটি মালিকানা, সত্যতা, মূল্য স্থানান্তর এবং অ্যাক্সেসযোগ্যতার ডিজিটাল প্রমাণ দিতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি দুটি প্লে-টু-আর্ন গেম ইন্টারঅপারেবল হয় এবং একই ব্লকচেইনে তৈরি হয়, তবে খেলোয়াড়রা তাদের একটি থেকে অন্যটিতে আসা যাওয়া করতে পারবেন এবং তাদের ভার্চুয়াল আইটেমগুলো উভয় গেমেই প্রতিষ্ঠিত ও সুরক্ষিত হতে পারে। অন্য কথায়, ব্যবহারকারীরা উভয় ভার্চুয়াল জগতে তাদের বন্দুক, স্কিন এবং অন্যান্য ইন-গেম আইটেম ব্যবহার করতে পারবেন। ভিন্ন ভিন্ন ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক জুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ডিজিটাল অ্যাসেটগুলো সরানোর জন্য ব্লকচেইন ব্রিজ ব্যবহার করারও সম্ভাবনা রয়েছে।

মেটাভার্সের ভবিষ্যত ওয়েব

মেটাভার্স এখনও তার বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কেউ জানে না এটি কীভাবে কার্যকর হবে, তবে এটি নিঃসন্দেহে এমন একটি প্রযুক্তি খাত যা মূলধন এবং ডেভেলপারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। উপরে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, মেটাভার্স সম্ভবত বেশ কয়েকটি পৃথক মেটাভার্স নিয়ে গঠিত হবে। তা সত্ত্বেও, ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো প্রযুক্তিগুলো সম্ভবত একাধিক ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।

দীর্ঘমেয়াদে, আমরা বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত বিভিন্ন মেটাভার্সকে একটি একক মেটাভার্সের অংশ হতে দেখতে পারি। বিভিন্ন মেটাভার্সের একটি ওয়েব তৈরি করা হলে তা আরো বেশি সংখ্যক অভিযোজনকে উৎসাহিত করতে পারে।

শেষ কথা

নতুন প্রকল্প বাজারে আসার সাথে সাথে মেটাভার্স বাড়তে থাকে এবং বিদ্যমানগুলো নতুন নতুন ফাংশনালিটি এবং পরিষেবা তৈরি করে। ক্রিপ্টো স্পেসে ইতোমধ্যেই সফল মেটাভার্স প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্লকচেইন-নেটিভ, যেমন ডিসেন্ট্রাল্যান্ড, সেইসাথে Fortnite এবং Meta-এর মতো প্রচলিত বাজারের খেলোয়াড়গণ। AR, VR, ব্লকচেইন এবং অন্যান্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে, আমরা সম্ভবত রোমাঞ্চকর নতুন ভার্চুয়াল, সীমাহীন মেটাভার্সের ক্রমবিকাশ দেখতে পাবো।