ব্লকচেইন প্রযুক্তি কী? চূড়ান্ত নির্দেশিকা
সুচিপত্র
অধ্যায় 1 - ব্লকচেইন 101
ব্লকচেইন কী?
ব্লকচেইন কিভাবে সংযুক্ত করা হয়?
ব্লকচেইন এবং বিকেন্দ্রীকরণ
বাইজেন্টাইন জেনারেলস প্রবলেম
ব্লকচেইন কেন বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন?
পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক কী?
ব্লকচেইন নোড কী?
পাবলিক বনাম প্রাইভেট ব্লকচেইন
লেনদেন কিভাবে কাজ করে?
কিভাবে বিটকয়েন লেনদেন করবেন
ব্লকচেইন প্রযুক্তি কে আবিষ্কার করেন?
ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা এবং অসুবিধা
অধ্যায় 2 - ব্লকচেইন কিভাবে কাজ করে?
কোনো ব্লকচেইন কিভাবে ব্লক যোগ করা হয়?
মাইনিং (প্রুফ অফ ওয়ার্ক)
স্ট্যাকিং (প্রুফ অব স্ট্যাক)
অন্যান্য কনসেনশাস অ্যালগরিদম
আমি কি ব্লকচেইন লেনদেন ফিরিয়ে আনতে পারি?
ব্লকচেইন স্কেলেবিলিটি কী?
ব্লকচেইন স্কেল করার প্রয়োজন হয় কেন?
ব্লকচেইন ফর্ক কী?
অধ্যায় 3 - ব্লকচেইন কিসের জন্য ব্যবহৃত হয়?
সাপ্লাই চেইনের জন্য ব্লকচেইন
ব্লকচেইন ও গেমিং ইন্ডাস্ট্রি
স্বাস্থ্যসেবায় ব্লকচেইন
ব্লকচেইন রেমিট্যান্স
ব্লকচেইন এবং ডিজিটাল পরিচয়
ব্লকচেইন এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT)
শাসন পরিচালনায় ব্লকচেইন
দাতব্য কাজে ব্লকচেইন
অনুসন্ধানের জন্য ব্লকচেইন
ব্লকচেইন দিয়ে ক্রাউডফান্ডিং
ব্লকচেইন এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম
ব্লকচেইন প্রযুক্তি কী? চূড়ান্ত নির্দেশিকা
হোম
নিবন্ধ
ব্লকচেইন প্রযুক্তি কী? চূড়ান্ত নির্দেশিকা

ব্লকচেইন প্রযুক্তি কী? চূড়ান্ত নির্দেশিকা

প্রকাশিত হয়েছে Dec 30, 2019আপডেট হয়েছে Nov 10, 2022
33m

অধ্যায়সমূহ

  1. ব্লকচেইন 101

  2. ব্লকচেইন কিভাবে কাজ করে?

  3. ব্লকচেইন কিসের জন্য ব্যবহৃত হয়?


অধ্যায় 1 - ব্লকচেইন 101

বিষয়বস্তু


ব্লকচেইন কী?

ব্লকচেইন হল একটি বিশেষ ধরনের ডাটাবেস। আপনি ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজি (বা DLT) কথাটিও শুনে থাকতে পারেন – অনেক ক্ষেত্রেই, এই জিনিসটির উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

একটি ব্লকচেইনের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ডেটা যুক্ত করার নিয়ম রয়েছে এবং একবার ডেটা সংরক্ষণ করা হলে, সেটি সংশোধন করা বা মুছে ফেলা কার্যত অসম্ভব।

ব্লক নামক কাঠামোতে সময়ের সাথে সাথে ডেটা যোগ করা হয়।প্রতিটি ব্লক শেষেরটির ভিত্তিতে তৈরি করা হয় এবং এতে এমন একটি তথ্য থাকে যা দিয়ে আগেরটির সাথে লিঙ্ক করা হয়।সর্বশেষ আপ-টু-ডেট ব্লক দেখে, আমরা যাচাই করতে পারি যে এটি শেষেরটির পরে তৈরি করা হয়েছে।ফলে আমরা যদি "চেইন" এর বরাবর নিচের দিকে যেতে থাকি, তাহলে আমরা আমাদের প্রথম ব্লকে পৌঁছাব – যা জেনেসিস ব্লক নামে পরিচিত।

তুলনা করে বোঝার জন্য, মনে করুন আপনার দুইটি কলামসহ একটি স্প্রেডশীট আছে। প্রথম সারির প্রথম ঘরে, আপনি যে ডেটা সংরক্ষণ করতে চান তা লিখুন।

প্রথম ঘরের ডেটা একটি দুই-অক্ষরের শনাক্তকারীতে রূপান্তরিত হবে, যা পরবর্তী ইনপুটের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।এই উদাহরণে, দ্বিতীয় সারির (defKP) পরবর্তী ঘরটি পূরণ করতে অবশ্যই দুই-অক্ষরের শনাক্তকারী KP ব্যবহার করতে হবে।এর মানে হল যে আপনি যদি প্রথম ইনপুট ডেটা (abcAA) পরিবর্তন করেন তাহলে আপনি অন্যান্য প্রতিটি ঘরে অক্ষরগুলোর একটি ভিন্ন সংমিশ্রণ পাবেন।

এমন একটি ডেটাবেস যেখানে প্রতিটি এন্ট্রি শেষেরটির সাথে সম্পৃক্ত থাকে।

এমন একটি ডেটাবেস যেখানে প্রতিটি এন্ট্রি শেষেরটির সাথে সম্পৃক্ত থাকে।


এখন 4 নং সারি দেখে, আমাদের বলে দিতে পারবো আমাদের সর্বশেষ শনাক্তকারী হল TH।আপনার কি মনে আছে আপনি কেন আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন না এবং এন্ট্রিগুলো সরাতে বা মুছতে পারবেন না?কারণ এতে যেকেউ সহজেই বুঝতে পারবে যে, এটি সম্পন্ন করা হয়ে গেছে, ফলে তারা আপনার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে শুরুতেই উপেক্ষা করবে।

ধরুন আপনি প্রথম ঘরে ডেটা পরিবর্তন করেছেন - ফলে, আপনি একটি ভিন্ন শনাক্তকারী পাবেন, যার অর্থ আপনার দ্বিতীয় ব্লকে ভিন্ন ডেটা তৈরি হবে, যার ফলে 2 নং সারিতে একটি ভিন্ন শনাক্তকারী পাওয়া যাবে এবং এভাবে পরবির্তনের ধারা চলতে থাকবে।সংক্ষেপে, TH হল পূর্ববর্তী সকল তথ্য থেকে উদ্ভূত একটি পণ্য।


ব্লকচেইন কিভাবে সংযুক্ত করা হয়?

দুই-অক্ষরের শনাক্তকারীর উদারহণের মাধ্যমে উপরে আমরা যাকিছু আলোচনা করেছি তা সবই ব্লকচেইন কীভাবে হ্যাশ ফাংশন ব্যবহার করে তার একটি সরলীকৃত তুলনা।হ্যাশিং হল আঠার মতো যা ব্লকগুলোকে একত্রে ধরে রাখে।এটি যেকোনো আকারের ডেটা গ্রহণ এবং সেটিকে একটি গাণিতিক ফাংশনের মাধ্যমে পাস করার বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত যা থেকে সর্বদা একই দৈর্ঘ্যের একটি আউটপুট (একটি হ্যাশ) তৈরি হয়।

ব্লকচেইনে ব্যবহৃত হ্যাশগুলো এই কারণে আকর্ষণীয় যে, দুইটি ডেটা থেকে হুবহু একই আউটপুট পাওয়ার সম্ভাবনা জ্যোতির্বিদ্যাগতভাবে কম। উপরের উদাহরণে আমাদের শনাক্তকারীর মত, আমাদের ইনপুট ডেটার কোনো সামান্য পরিবর্তন সম্পূর্ণ ভিন্ন আউটপুট দেবে।

আসুন SHA256 দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাক, যা বিটকয়েনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি ফাংশন। দেখা যাচ্ছে যে, এমনকি অক্ষরের ক্যাপিটালাইজেশন পরিবর্তন করলেও সেটি আউটপুটকে সম্পূর্ণভাবে বিকৃত করার জন্য যথেষ্ট।


ইনপুট ডেটা

SHA256 আউটপুট

Binance অ্যাকাডেমি

886c5fd21b403a139d24f2ea1554ff5c0df42d5f873a56d04dc480808c155af3

Binance অ্যাকাডেমি

4733a0602ade574551bf6d977d94e091d571dc2fcfd8e39767d38301d2c459a7

binance অ্যাকাডেমি

a780cd8a625deb767e999c6bec34bc86e883acc3cf8b7971138f5b25682ab181


ব্লকচেইনের ক্ষেত্রে যেকোনো জানাশোনা SHA256 এর মধ্যে সংঘর্ষ (অর্থাৎ, দুইটি ভিন্ন ইনপুট যা আমাদের একই আউটপুট দেয়) না থাকার বিষয়টি অবিশ্বাস্যরকমের গুরুত্ব বহন করে। এর মানে হল যে প্রতিটি ব্লক সেটির হ্যাশ অন্তর্ভুক্ত করে আগেরটিকে নির্দেশ করতে পারে, ফলে পুরানো ব্লকগুলো সম্পাদনা করার যেকোনো প্রচেষ্টা তৎক্ষণাৎ প্রকাশ হয়ে পড়বে।

প্রতিটি ব্লকে আগেরটি একটি চিহ্ন থেকে যায়।

প্রতিটি ব্লকে আগেরটি একটি চিহ্ন থেকে যায়।


ব্লকচেইন এবং বিকেন্দ্রীকরণ

আমরা একটি ব্লকচেইনের মৌলিক গঠন ব্যাখ্যা করেছি। কিন্তু আপনি ব্লকচেইন প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা শুনে থাকলে জানবেন যে, সেখানে শুধু ডেটাবেস নয় বরং ব্লকচেইনকে ঘিরে গড়ে ওঠা ইকোসিস্টেমও গুরুত্বপূর্ণ। 

স্বতন্ত্র ডেটা স্ট্রাকচার হিসেবে, ব্লকচেইনগুলো শুধুমাত্র নিশ অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে সত্যিই কার্যকর।যখন আমরা সেগুলোকে অপরিচিতদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে নেওয়ার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করি তখনই এটি আকর্ষণীয় ব্যাপার হয়ে ওঠে। অন্যান্য প্রযুক্তি এবং কিছু গেম থিয়োরির সাথে মিলে, একটি ব্লকচেইন একটি বণ্টিত লেজার হিসাবে কাজ করতে পারে যা কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।

এর অর্থ হল কারো পক্ষেই সিস্টেমের (সংক্ষেপ বলতে গেলে বিধিমালার) নিয়মের বাইরে এন্ট্রি সম্পাদনা করার ক্ষমতা নেই।সেই অর্থে, আপনি তর্ক করতে পারেন যে, লেজারটি একইসাথে প্রত্যেকের মালিকানাধীন: তাহলে তো অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো মুহূর্তে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এটির রূপ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে।


বাইজেন্টাইন জেনারেলস প্রবলেম

উপরে বর্ণিত সিস্টেমের মোকাবেলায় দাঁড়ানো আসল চ্যালেঞ্জটি হল বাইজেন্টাইন জেনারেলস প্রবলেম। 1980 এর দশকে ধারণা করা হয়েছিল, এটি একটি দ্বান্দ্বিক ব্যাপার যেখানে স্বতন্ত্র অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ কাজ সমন্বয় করতে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়। সুনির্দিষ্ট দ্বন্দ্বটি হল, মুষ্টিমেয় কিছু সামরিক জেনারেল একটি শহরকে ঘিরে ফেলে এবং এটি আক্রমণ করবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। জেনারেলগণ শুধুমাত্র মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। 

আক্রমণ বা পশ্চাদপসরণ করা হবে কি-না তা প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যতক্ষণ না সব জেনারেল একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে একমত হচ্ছেন ততক্ষণ তারা আক্রমণ করুন বা পশ্চাদপসরণ করুন সেটি কোনো ব্যাপার নয়। যদি তারা আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তারা একই সময়ে প্রবেশ করলেই সফল হবেন। তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিত করব যে তারা এটি সামলাতে পারবেন? 

অবশ্যই, তারা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। কিন্তু যদি মেসেঞ্জারে "আমরা ভোরে আক্রমণ করছি" এই বার্তাটি আটকে দেওয়া হয় এবং সেই বার্তাটিকে "আমরা আজ রাতে আক্রমণ করছি" দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয় তাহলে কী হবে? যদি কোনো জেনারেল দুর্নীতিপ্রবণ হয় এবং পরাজয় ঘটানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করে?

আক্রমণ করার সময় সকল জেনারেল সফল হন (বামে)। কেউ কেউ পালিয়ে গেলে আর অন্যরা আক্রমণ করলে, তখন তারা পরাজিত হবেন (ডানে)।

আক্রমণ করার সময় সকল জেনারেল সফল হন (বামে)। কেউ কেউ পালিয়ে গেলে আর অন্যরা আক্রমণ করলে, তখন তারা পরাজিত হবেন (ডানে)।


আমাদের এমন একটি কৌশল দরকার যেখানে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিপ্রবণ হলেও কিংবা বার্তাগুলো আটকে দেওয়া হলেও কনসেনশাসে পৌঁছানো যেতে পারে। একটি ডেটাবেস রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারার বিষয়টি শক্তিসঞ্চয় ছাড়াই কোনো শহর আক্রমণের মতো জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন না হলেও নীতিগতভাবে বিষয়টি একই। যদি ব্লকচেইনের তত্ত্বাবধান করার এবং ব্যবহারকারীদের "সঠিক" তথ্য দেওয়ার জন্য কেউ না থাকে, তাহলে ব্যবহারকারীদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে সক্ষম হতে হবে।

এক (বা একাধিক) ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার জন্য, ব্লকচেইনের প্রক্রিয়াগুলোকে এই ধরনের বিপত্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ার জন্য সাবধানতার সাথে ইঞ্জিনিয়ার করতে হবে।কোনো সিস্টেম যখন এটি অর্জন করতে পারে তখন সেটিকে বাইজেন্টাইন ত্রুটিমুক্ত হিসাবে অভিহিত করা হয়। একটু পরেই আমরা দেখাবো যে, শক্তিশালী নিয়ম-কানুন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কনসেনশাস অ্যালগরিদম ব্যবহৃত হয়।


ব্লকচেইন কেন বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন?

আপনি অবশ্যই নিজে নিজেও একটি ব্লকচেইন পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনি এমন একটি ডেটাবেস পান যা আরো ভালো বিকল্পগুলোর তুলনায় দুর্বল। এর প্রকৃত সম্ভাবনাকে একটি বিকেন্দ্রীভূত পরিবেশে কাজে লাগানো যেতে পারে - অর্থাৎ যেখানে সকল ব্যবহারকারী সমান। একারণে, ব্লকচেইন মুছে ফেলা যায় না কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে দখল করা যায় না। এটি 'সত্য' এর একক উৎস যা সবার কাছে দৃশ্যমান।


পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক কী?

পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) নেটওয়ার্ক হল আমাদের ব্যবহারকারীদের স্তর (বা আমাদের আগের উদাহরণে জেনারেল)। এখানে কোনো প্রশাসক থাকে না, তাই কোনো ব্যবহারকারী অন্য ব্যবহারকারীর সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে চাইলে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ফোন করার পরিবর্তে, সরাসরি তাদের পিয়ার এর কাছে পাঠায়। 

নীচের চিত্রটি দেখুন। বাম দিকে, A-কে সার্ভারের মাধ্যমে তার বার্তাটি F-তে পৌঁছানোর জন্য রুট করতে হবে। তবে, ডানদিকে সে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সংযুক্ত রয়েছে।

একটি কেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক (বাম) বনাম একটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক (ডান)।

একটি কেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক (বাম) বনাম একটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক (ডান)।


সাধারণত, সার্ভারে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। আপনি যখন Binance অ্যাকাডেমিতে অ্যাক্সেস করেন, তখন আপনি এর সার্ভারগুলোকে অনুরোধ করেন আপনাকে সমস্ত নিবন্ধ পাঠাতে। ওয়েবসাইটটি অফলাইনে থাকলে, আপনি সেগুলো দেখতে পারবেন না৷ তবে, আপনি যদি সকল বিষয়বস্তু ডাউনলোড করে থাকেন, তাহলে আপনি Binance অ্যাকাডেমিকে জিজ্ঞাসা না করেই এটি আপনার কম্পিউটারে লোড করতে পারেন। 

মোটকথা, ব্লকচেইনের বেলায় প্রত্যেক পিয়ারের ক্ষেত্রে এটাই ঘটে: সম্পূর্ণ ডাটাবেস তাদের কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে। কেউ যদি নেটওয়ার্ক ছেড়ে চলেও যায়, তবুও অবশিষ্ট ব্যবহারকারীরা ব্লকচেইন অ্যাক্সেস করতে এবং একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার করতে পারবেন। যখন চেইনে কোনো নতুন ব্লক যোগ করা হয়, তখন ডেটা নেটওয়ার্ক জুড়ে তা প্রযুক্ত হয় যাতে প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব লেজারের কপি আপডেট করতে পারে।

এই ধরনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরো গভীর আলোচনার জন্য পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের ব্যাখ্যা খুঁজে দেখতে ভুলবেন না।


ব্লকচেইন নোড কী?

নোডগুলোকে সাধারণভাবে নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত মেশিন বলা হয়ে থাকে - তারাই ব্লকচেইনের কপি সংরক্ষণ করে এবং অন্যান্য মেশিনের সাথে তথ্য শেয়ার করে। ব্যবহারকারীদের পক্ষে এই প্রক্রিয়াগুলো ম্যানুয়ালি পরিচালনা করার দরকার হয় না। সাধারণত, তাদের যা করতে হয় তা হল ব্লকচেইনের সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড করা এবং চালানো, অবশিষ্ট কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যায়।

উপরোক্ত বর্ণনাটিতে বিশুদ্ধতম অর্থে একটি নোড কী তা বর্ণিত হয়েছে, তবে সংজ্ঞাটি অন্যান্য ব্যবহারকারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে যারা যেকোনো উপায়ে নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ করে।ক্রিপ্টোকারেন্সির বেলায়, উদাহরণস্বরূপ, আপনার ফোনে থাকা একটি সাধারণ ওয়ালেট অ্যাপ্লিকেশন যা হালকা নোড নামে পরিচিত। 


পাবলিক বনাম প্রাইভেট ব্লকচেইন

আপনি হয়তো জানেন, বিটকয়েন ব্লকচেইন শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যা অবশেষে আজকের অবস্থায় পৌঁছেছে। যখন থেকে বিটকয়েন একটি বৈধ আর্থিক সম্পদ হিসাবে প্রমাণিত হতে শুরু করেছে, তখন থেকেই উদ্ভাবকরা অন্যান্য ক্ষেত্রের জন্য অন্তর্নিহিত প্রযুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে চিন্তা করে আসছেন। আর্থিক বিষয়াদির বাইরে অগণিত ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ব্লকচেইনের অনুসন্ধানের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।

বিটকয়েন হল সেই জিনিস যাকে আমরা পাবলিক ব্লকচেইন বলে থাকি। এর মানে হল, যে কেউ এটিতে লেনদেনগুলো দেখতে পারে এবং এতে যোগ দিতে যা লাগে তা হল শুধুমাত্র একটি ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার। যেহেতু অংশগ্রহণের জন্য অন্য কোনোকিছুর আবশ্যকতা নেই, তাই আমরা এটিকে অনুমতিহীন পরিবেশ হিসেবে অভিহিত করতে পারি।

বিপরীতপক্ষে, অন্যান্য আরো ব্লকচেইন রয়েছে যেগুলোকে প্রাইভেট ব্লকচেইন বলা হয়। এই সিস্টেমগুলোতে ব্লকচেইন কারা দেখতে পারবে এবং ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবে সে বিষয়ে নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করা থাকে। ফলে, আমরা সেগুলোকে অনুমোদিত পরিবেশ হিসাবে উল্লেখ করে থাকি। যদিও প্রাইভেট ব্লকচেইনগুলো দৃশ্যত অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতে পারে, সেগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে - প্রধানত ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলোতে।

এই বিষয়ে আরো জানতে, পাবলিক, প্রাইভেট এবং কনসোর্টিয়াম ব্লকচেইন - পার্থক্য কী? দেখুন।


ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে শুরু করতে চাইছেন? Binance-এ বিটকয়েন ক্রয় করুন!


লেনদেন কিভাবে কাজ করে?

অ্যালিস যদি ববকে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে চায়, তাহলে সে তার ব্যাংককে সেকথা জানিয়ে দেয়।ধরা যাক যে, সহজে লেনদেনের জন্য দুটি দল একই ব্যাংক ব্যবহার করে।অ্যালিসের ডেটাবেস (যেমন, অ্যালিসকে -$50, ববকে +$50 ) আপডেট করার আগে ব্যাংক যাচাই করে দেখে যে লেনদেন করার জন্য তহবিল রয়েছে কিনা।

একটি ব্লকচেইনের ক্ষেত্রে যা ঘটে এটি তার থেকে খুব বেশি আলাদা কিছু নয়। মোটের উপর, এটি মূলত একটি ডেটাবেস। মূল পার্থক্য হল, এখানে যাচাই করা এবং ব্যালেন্স আপডেট করার জন্য কোনো একক পক্ষ নেই। সবগুলো নোডকেই এই কাজটি করতে হয়। 

অ্যালিস যদি ববকে পাঁচটি বিটকয়েন পাঠাতে চায়, তাহলে সে নেটওয়ার্কে সেকথা জানিয়ে একটি বার্তা সম্প্রচার করে।এটি সরাসরি ব্লকচেইনে যোগ করা হবে না – নোডগুলো এটি দেখতে পাবে, তবে লেনদেন নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য কাজগুলো অবশ্যই সম্পন্ন হতে হবে।ব্লকচেইনে কিভাবে ব্লক যোগ করা হয়? দেখুন

লেনদেনটি ব্লকচেইনে যুক্ত হয়ে গেলে, সবগুলো নোড দেখতে পাবে যে এটি তৈরি করা হয়েছে। তারা ব্লকচেইনের প্রতিনিধিত্ব করতে নিজের কপি আপডেট করবে। এখন, অ্যালিস সেই একই পাঁচ ইউনিট আবার ক্যারলকে পাঠাতে (এভাবে, দ্বিগুণ-ব্যয় করতে) পারবে না, কারণ নেটওয়ার্ক জেনে গেছে যে, সে ইতোমধ্যেই আগের লেনদেনে সেগুলো ব্যয় করে ফেলেছে।

এক্ষেত্রে, ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ডের কোনো ব্যাপার নেই – ফান্ডের মালিকানা প্রমাণ করতে পাবলিক-কী ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়।ফান্ড পেতে প্রথমে ববকে একটি প্রাইভেট কী তৈরি করতে হবে।এটি কেবল একটি খুবই দীর্ঘ অনিয়মিত একটি সংখ্যা যা কারও পক্ষে অনুমান করা কার্যত অসম্ভব, এমনকি এই কাজে শত শত বছর সময় দিলেও।কিন্তু যদি সে কাউকে তার প্রাইভেট কী বলে দেয়, তাহলে সেই ব্যক্তি তার ফান্ডের উপর মালিকানা প্রমাণ করতে পারবে (এবং সেজন্য ব্যয় করবে)।তাই এটি গোপন রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

বব যা করতে পারে তা হল তার প্রাইভেট কী থেকে একটি পাবলিক কী তৈরি করা।তারপর সে যে কাউকে সেই পাবলিক কী দিতে পারে কারণ প্রাইভেট কী পাওয়ার জন্য এটিকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, একটি পাবলিক অ্যাড্রেস পেতে তাকে পাবলিক কী-তে অন্য অপারেশন (যেমন হ্যাশিং) করতে হবে।

ব্লকচেইন লেনদেন কিভাবে কাজ করে


সে অ্যালিসকে পাবলিক অ্যাড্রেস দেবে যাতে সে জানতে যে ফান্ড কোথায় পাঠাতে হবে। সে একটি লেনদেন তৈরি করবে যেখানে বলা হবে এই ফান্ডটি এই পাবলিক অ্যাড্রেসে প্রদান করুন৷ তারপর, সে যে অন্য কারো ফান্ড ব্যয় করার চেষ্টা করছে না নেটওয়ার্কের কাছে সেটি প্রমাণ করার জন্য সে তার নিজের প্রাইভেট কী ব্যবহার করে একটি ডিজিটাল স্বাক্ষর তৈরি করবে। যে কেউ অ্যালিসের স্বাক্ষরিত বার্তাটি দেখতে পারে এবং এটিকে তার সর্বজনীন কী এর সাথে মিলিয়ে নিশ্চিতভাবে বলতে পারে যে ববকে সেই তহবিলগুলো পাঠানোর অধিকার তার রয়েছে।


কিভাবে বিটকয়েন লেনদেন করবেন

আপনি কিভাবে বিটকয়েন লেনদেন করতে পারেন তা বুঝতে, চলুন দুটি ভিন্ন পরিস্থিতি কল্পনা করি। প্রথমটিতে আপনি Binance থেকে বিটকয়েন উত্তোলন করবেন এবং দ্বিতীয়টিতে আপনার ট্রস্ট ওয়ালেট থেকে আপনার ইলেক্ট্রাম ওয়ালেটে ফান্ড পাঠাবেন।


Binance থেকে কিভাবে বিটকয়েন উত্তোলন করবেন

1. আপনার Binance অ্যাকাউন্টে লগ ইন করুন।যদি আপনার কাছে এখনও কোনো বিটকয়েন না থাকে, তাহলে কিছু পরিমাণে কিনতে আমাদের কিভাবে কিনবেন বিষয়ক বিটকয়েন গাইড দেখুন।

2. ওয়ালেটের উপর হোভার করুন এবং স্পট ওয়ালেট নির্বাচন করুন।

Binance ওয়ালেট ড্রপডাউন থেকে স্পট ওয়ালেট নির্বাচন করা


3. বাম পাশের সাইডবারে উত্তোলন-এ ক্লিক করুন।

4. আপনি যে কয়েনটি উত্তোলন করতে চান তা বেছে নিন - এই ক্ষেত্রে, BTC

5. আপনি যে ঠিকানায় আপনার বিটকয়েন উত্তোলন করতে চান সেটি কপি করুন এবং প্রাপকের BTC ঠিকানায় পেস্ট করুন।

Binance উত্তোলন স্ক্রিন


6. আপনি যে পরিমাণ টাকা তুলতে চান তা নির্দিষ্ট করুন।

7. জমা দিন-এ ক্লিক করুন।

8. আপনি সাথেসাথেই একটি নিশ্চিতকরণ ইমেল পাবেন।ঠিকানাটি সঠিক কিনা তা সতর্কতার সাথে যাচাই করুন।সঠিক হলে, ইমেইলে লেনদেন নিশ্চিত করুন।

9. ব্লকচেইনে আপনার লেনদেন শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।আপনি জমা এবং উত্তোলন ইতিহাস ট্যাবের অধীনে বা ব্লক এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে এটির স্থিতি নিরীক্ষণ করতে পারেন।


ট্রাস্ট ওয়ালেট থেকে ইলেক্ট্রামে কিভাবে বিটকয়েন পাঠাবেন

এই উদাহরণে, আমরা ট্রাস্ট ওয়ালেট থেকে ইথিরিয়ামে কিছু বিটকয়েন পাঠাব।


1. ট্রাস্ট ওয়ালেট অ্যাপ খুলুন।

2. আপনার বিটকয়েন অ্যাকাউন্টে আলতো চাপুন।

3. প্রেরণ করুন-এ আলতো চাপুন।

4. আপনার ইথিরিয়াম ওয়ালেট খুলুন।

5. ইথিরিয়ামের গ্রহণ করুন ট্যাবে ক্লিক করুন এবং ঠিকানাটি কপি করুন।

ইলেক্সট্রাম ওয়ালেটের স্ক্রিনশট


বিকল্পরূপে, আপনি ট্রাস্ট ওয়ালেটে ফিরে যেতে পারেন এবং আপনার ইলেক্ট্রাম ঠিকানা অভিমুখী কিউআর কোড স্ক্যান করতে [–] আইকনে আলতো চাপুন।

ট্রাস্টওয়ালেটের স্ক্রিনশট


6. ট্রাস্ট ওয়ালেটে প্রাপকের ঠিকানার স্থলে আপনার বিটকয়েন ঠিকানা পেস্ট করুন।

7. পরিমাণ উল্লেখ করুন।

8. সবকিছু সঠিক মনে হলে, লেনদেন নিশ্চিত করুন।

9. আপনার কাজ শেষ!ব্লকচেইনে আপনার লেনদেন নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।আপনি একটি ব্লক এক্সপ্লোরারে আপনার ঠিকানা কপি করে এটির স্থিতি নিরীক্ষণ করতে পারেন।


ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে শুরু করতে চাইছেন? Binance-এ বিটকয়েন ক্রয় করুন!


ব্লকচেইন প্রযুক্তি কে আবিষ্কার করেন?

ব্লকচেইন প্রযুক্তি 2009 সালে বিটকয়েন প্রকাশের সাথে আনুষ্ঠানিক রূপ পায় - এটিই প্রথম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লকচেইন। তবে, এর ছদ্মনামধারী স্রষ্টা সাতোশি নাকামোতো পূর্বের প্রযুক্তি এবং প্রস্তাবগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

ব্লকচেইনগুলো হ্যাশ ফাংশন এবং ক্রিপ্টোগ্রাফির ব্যাপক ব্যবহার করে, যা বিটকয়েন অবমুক্তির আগে কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান ছিল। মজার বিষয় হল, খুঁজে দেখলে ব্লকচেইনের কাঠামোটি 1990 এর দশকের প্রথম দিকেও পাওয়া যেতে পারে, যদিও সে সময়ে এটি শুধুমাত্র টাইমস্ট্যাম্পিং ডকুমেন্টের জন্য ব্যবহার করা হতো যাতে সেগুলো পরে পরিবর্তন করা না যায়।

এই বিষয়ে আরো জানতে, ব্লকচেইনের ইতিহাস দেখুন।


ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা এবং অসুবিধা

সঠিকভাবে ইঞ্জিনিয়ার করা ব্লকচেইনগুলো এমন একটি সমস্যার সমাধান করতে পারে যা অর্থব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃষি পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পে স্টেকহোল্ডারদের সমস্যায় ফেলে দেয়। একটি ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক ঐতিহ্যগত ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেলের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা দেয়, তবে এতে কিছু ট্রেড-অফের ব্যাপারও রয়েছে।


সুবিধা

বিটকয়েনের শ্বেতপত্রে উল্লিখিত তাৎক্ষণিক সুবিধাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারীর সম্পৃক্ততা ছাড়াই অর্থপ্রদান সম্পন্ন করা যেতে পারে। পরবর্তী ব্লকচেইনগুলো ব্যবহারকারীদেরকে সব ধরনের তথ্য পাঠানোর সুযোগ করে দিয়ে এটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে। তৃতীয় পক্ষগুলোকে বাদ দেওয়ার অর্থ হল সম্পৃক্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি কমানো এবং কোনো মধ্যস্থতাকারীর ফি না থাকায় খরচ কম হয়।

যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, পাবলিক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কেও অনুমতির দরকার হয় না – কারণ খবরদারি করার মতো কেউ না থাকায় সেখানে প্রবেশে কোনো বাধা নেই। যদি একজন সম্ভাব্য ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে পারে, তাহলে সে নেটওয়ার্কে অন্যান্য পিয়ারদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে।

অনেকেই যুক্তি দেবেন যে ব্লকচেইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল সেগুলোর উচ্চ মাত্রার সেন্সরশিপ-প্রতিরোধী হওয়া। একটি কেন্দ্রীভূত পরিষেবাকে অচল করে দিতে, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি সার্ভারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। কিন্তু একটি পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে, প্রতিটি নোড তার নিজস্ব সার্ভার হিসাবে কাজ করে। 

বিটকয়েনের মতো একটি সিস্টেমে 10,000 টিরও বেশি দৃশ্যমান নোড বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যা এমনকি কোনো প্রবল শক্তিশালী কোনো আক্রমণকারীর পক্ষেও নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়া কার্যত অসম্ভব করে তোলে। খেয়াল রাখা দরকার যে, অনেকগুলো লুকানো নোড রয়েছে, যা বিস্তৃত নেটওয়ার্কে দৃশ্যমান নয়।

এগুলো হল কিছু সাধারণ সুবিধা।অনেকগুলো নির্দিষ্ট ব্যবহারের ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলোতে ব্লকচেইন ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমনটি আপনি ব্লকচেইন কিসের জন্য ব্যবহৃত হয়? থেকে দেখে নিতে পারেন।


অসুবিধা

তবে, ব্লকচেইন সব সমস্যার যাদুকরী সমাধান নয়। আগের অংশে সুবিধার জন্য অপ্টিমাইজ করার ক্ষেত্রে, সেগুলো অন্যান্য ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি করে। ব্লকচেইনগুলোকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হল সেগুলো ঠিকঠাকভাবে স্কেল করা যায় না।

যেকোনো ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে একথা সত্য। যেহেতু সকল অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই সিঙ্ক অবস্থায় থাকতে হবে, তাই নতুন তথ্য খুব দ্রুত যোগ করা যায় না কারণ সেক্ষেত্রে নোডগুলো খাপ খাওয়াতে অক্ষম হবে। তাই, সিস্টেমটি বিকেন্দ্রীকৃত রাখতে ডেভলপাররা ব্লকচেইন আপডেট করার গতি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত রাখার চেষ্টা করেন।

যদি অনেক বেশি লোক লেনদেন করার চেষ্টা করে তবে কোনো নেটওয়ার্ক সেটির ব্যবহারকারীদের কাছে খুব ধীর হিসেবে দেখা দিতে পারে। ব্লকগুলো শুধু অনেক বেশি ডেটা ধারণ করতে পারে তবে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে চেইনে যোগ করা হয় না। যদি ব্লকের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লেনদেন হয়, তাহলে অতিরিক্তগুলোকে পরবর্তী ব্লকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিকেন্দ্রীভূত ব্লকচেইন সিস্টেমের আরেকটি সম্ভাব্য সমস্যা হল সেগুলোকে সহজে আপগ্রেড করা যায় না। আপনি যদি নিজের সফ্টওয়্যার তৈরি করেন, তাহলে আপনি আপনার ইচ্ছামত নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পারবেন। পরিবর্তন করার জন্য আপনাকে অন্যদের সাথে কাজ করতে কিংবা অনুমতি চাইতে হবে না।

সম্ভাব্য লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর পরিবেশে, পরিবর্তন করা যথেষ্ট কঠিন। আপনি আপনার নোড সফ্টওয়্যারের কিছু পরামিতি পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু সেটি করলে শেষপর্যন্ত আপনি নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। যদি পরিবর্তিত সফ্টওয়্যারটি অন্যান্য নোডের সাথে বেমানান হয়, তবে সেগুলো এটিকে চিনবে এবং আপনার নোডের সাথে যোগাযোগ করতে অস্বীকার করবে।

ধরুন ব্লক কত বড় হবে (1MB থেকে 2MB পর্যন্ত) আপনি সেই নিয়মটি পরিবর্তন করতে চান। আপনি এই ব্লকটি সেই নোডগুলোতে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারেন যেগুলোর সাথে আপনি সংযুক্ত আছেন, কিন্তু তাদের একটি নিয়মে বলা আছে "1MB এর বেশি ব্লক গ্রহণ করবেন না"৷ যদি তারা এর চেয়ে বড় কিছু পায় তবে তারা ব্লকচেইনের কপিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করবে না।

পরিবর্তনগুলোকে কার্যকর করার একমাত্র উপায় হল বেশিরভাগ ইকোসিস্টেমে সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।প্রধান ব্লকচেইনগুলোতে, পরিবর্তন সমন্বিত করার আগে ফোরামে ব্যাপক আলাপ-আলোচনায় মাসের পর মাস - এমনকি বছরও পার হয়ে যেতে পারে। এই বিষয়ে আরো জানতে হার্ড ফর্কস এবং সফট ফর্কস দেখুন।



অধ্যায় 2 - ব্লকচেইন কিভাবে কাজ করে?

বিষয়বস্তু


কোনো ব্লকচেইন কিভাবে ব্লক যোগ করা হয়?

আমরা এখন পর্যন্ত অনেককিছু কভার করেছি। আমরা জানি যে নোডগুলো পরস্পর সংযুক্ত এবং তারা ব্লকচেইনের কপি সংরক্ষণ করে থাকে। তারা পরস্পরের সাথে লেনদেন এবং নতুন ব্লক সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান করে। আমরা ইতোমধ্যেই নোড নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু আপনি হয়তো ভাবছেন: ব্লকচেইনে নতুন ব্লকগুলো কিভাবে যুক্ত করা হয়?

কী করতে হবে ব্যবহারকারীদেরকে তা বলার জন্য কোনো একক উৎস নেই। যেহেতু সকল নোডের ক্ষমতা সমান, তাই ব্লকচেইনে কারা ব্লক যোগ করতে পারবেন তা ঠিক করার জন্য একটি ব্যবস্থা থাকা দরকার। আমাদের এমন একটি সিস্টেম দরকার যা ব্যবহারকারীদের পক্ষে প্রতারণা করার বিষয়টিকে ব্যয়বহুল করে তোলে অন্যদিকে সততার সাথে কাজ করার জন্য তাদের পুরস্কৃত করে। যেকোনো যুক্তিবাদী ব্যবহারকারী এমনভাবে কাজ করতে চাইবেন যা তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে উপকারী হয়।

যেহেতু নেটওয়ার্কটি অনুমতিহীন, তাই ব্লক তৈরি করার ষিয়টি সকলের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য হতে হবে। প্রোটোকলগুলোতে প্রায়ই ব্যবহারকারীদের "নিজ দায়িত্বে ঝুঁকি নেওয়ার" ব্যবস্থা রাখার মাধ্যমে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে - তাদেরকে অবশ্যই তাদের নিজের অর্থ ঝুঁকিতে রাখতে হবে। এটি করার ফলে তারা ব্লক তৈরিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে, এবং যদি তারা একটি বৈধ ব্লক তৈরি করে, তাহলে তাদেরকে একটি পুরষ্কার প্রদান করা হবে।

তবে, তারা প্রতারণার চেষ্টা করলে, বাকি নেটওয়ার্ক তা জানতে পারবে।তারা যে স্ট্যাক নিয়ে কাজ করছিল তা হারাবে।আমরা এই প্রক্রিয়াগুলোকে কনসেনশাস অ্যালগরিদম বলি কারণ সেগুলো নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণকারীদের পরবর্তীতে কোন ব্লক যুক্ত হওয়ার কথা সে সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়।


মাইনিং (প্রুফ অফ ওয়ার্ক)

প্রুফ অফ ওয়ার্ক


মাইনিং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কনসেনশাস অ্যালগরিদম।মাইনিংয়ের ক্ষেত্রে, প্রুফ অফ ওয়ার্ক (PoW) অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।এতে ব্যবহারকারীরা প্রোটোকল দ্বারা সেট করা একটি ধাঁধা নিয়ে কাজ করে এবং তা সমাধান করার জন্য কম্পিউটিং শক্তি নিয়োগ করে।

ধাঁধার জন্য ব্যবহারকারীদের ব্লকে অন্তর্ভুক্ত লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য হ্যাশ করতে হয়। কিন্তু হ্যাশ বৈধ বলে বিবেচিত হওয়ার জন্য, এটিকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার নিচে থাকতে হবে। যেহেতু প্রদত্ত আউটপুট কী হবে তা অনুমান করার কোন উপায় নেই, তাই একটি বৈধ সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত মাইনারদের সামান্য পরিবর্তিত ডেটা হ্যাশ করতে হবে।

স্পষ্টতই, বারবার ডেটা হ্যাশ করা গণনাগতভাবে ব্যয়বহুল।প্রুফ অফ ওয়ার্ক ব্লকচেইনে, ব্যবহারকারীরা যে "স্ট্যাক" কাজে লাগান তা হল মাইনিং কম্পিউটারে বিনিয়োগ করা অর্থ এবং তা সচল রাখার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ খরচ।তারা ব্লক পুরষ্কার পাওয়ার আশায় এটি করে। 

এর আগে আমরা বলেছিলাম কিভাবে হ্যাশকে বিপরীতমুখী করা কার্যত অসম্ভব, কিন্তু আবার তা যাচাই করা সহজ- সেকথা কি মনে আছে? যখন একজন মাইনার বাকি নেটওয়ার্কে একটি নতুন ব্লক পাঠান, তখন অন্য সব নোড এটিকে হ্যাশ ফাংশনে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করে। ব্লকচেইনের নিয়ম অনুসারে ব্লকটি বৈধ কিনা তা যাচাই করার জন্য তাদের কেবল একবার এটি চালাতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে মাইনাররা পুরষ্কার পাবেন না এবং বিনা কারণে তাদের বিদ্যুৎখরচ হবে।

প্রথম প্রুফ অফ ওয়ার্ক ব্লকচেইন ছিল বিটকয়েনের। এর সৃষ্টির পর থেকে, অন্যান্য অনেক ব্লকচেইন PoW প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে।


প্রুফ অফ ওয়ার্কের সুবিধা

  • চেষ্টাকৃত ও পরীক্ষিত - আজ অবধি, প্রুফ অফ ওয়ার্ক হল সবচেয়ে সুগঠিত কনসেনশাস অ্যালগরিদম যা শত শত বিলিয়ন ডলারের মূল্য ধারণ করে।

  • অনুমতিবিহীন - মাইনিং প্রতিযোগিতায় যেকেউ যোগ দিতে পারে অথবা শুধুই একটি বৈধ নোড চালাতে পারে।

  • বিকেন্দ্রীকরণ - মাইনাররা ব্লক তৈরি করার জন্য একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যার অর্থ হল হ্যাশ শক্তি কখনই কোনো একক পক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় না।


প্রুফ অফ ওয়ার্কের অসুবিধা

  • অপব্যয়মূলক - মাইনিংয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়।

  • প্রবেশের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান উচ্চ বাধা - নেটওয়ার্কে আরো বেশিসংখ্যক মাইনার যোগদান করলে প্রোটোকলগুলো মাইনিং ধাঁধার জটিলতা বৃদ্ধি করে।প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য, ব্যবহারকারীদের অবশ্যই ভালো সরঞ্জামগুলোতে বিনিয়োগ করতে হবে।ব্যয়বহুলতার কারণে অনেক মাইনার সরে পড়তে পারে।

  • 51% আক্রমণ - যদিও মাইনিং বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করে, তবুও কোনো একজন মাইনারের পক্ষে বেশিরভাগ হ্যাশ শক্তি অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।যদি কেউ তা করতে পারে, তখন সে তাত্ত্বিকভাবে লেনদেন পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ব্লকচেইনের নিরাপত্তা নষ্ট করতে পারে।


স্ট্যাকিং (প্রুফ অব স্ট্যাক)

প্রুফ অফ ওয়ার্ক সিস্টেমে, যে জিনিসটি আপনাকে সৎভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করে তা হল আপনার মাইনিং কম্পিউটারের জন্য বিনিয়োগ এবং বিদ্যুতের খরচ। আপনি যদি সঠিকভাবে ব্লক মাইনিং না করেন তবে আপনি আপনার বিনিয়োগ থেকে কোনো মুনাফা পাবেন না।

প্রুফ অফ স্ট্যাক (PoS) এর বেলায় কোনো বাহ্যিক খরচ নেই।এখানে মাইনারদের পরিবর্তে, আমাদের ভ্যালিডেটররা আছেন যারা ব্লক প্রস্তাব (বা "ফর্জ") করে থাকেন।নতুন ব্লক তৈরি করতে তারা একটি সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন, তবে তাদের অবশ্যই বিশেষাধিকারের জন্য তাদের ফান্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্ট্যাক হিসেবে রাখতে হবে।প্রতিটি প্রোটোকলের নিয়ম অনুসারে ব্লকচেইনের নেটিভ ক্রিপ্টোকারেন্সির পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের সাথে স্ট্যাকিং করা হয়। 

বিভিন্ন প্রয়োগের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, কিন্তু একবার একজন ভ্যালিডেটর তার ইউনিটগুলো স্থির করে ফেললে, প্রোটোকল থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে পরবর্তী ব্লক ঘোষণা করা হতে পারে। এটি সঠিকভাবে করলে, একটি পুরষ্কার পাবেন। বিকল্পরূপে, একাধিক ভ্যালিডেটর থাকতে পারেন যারা পরবর্তী ব্লকের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছবেন এবং স্ট্যাকে প্রত্যেকের অবদানের ভিত্তিতে সমানুপাতিক হারে পুরস্কারটি বিতরণ করা হবে।

"বিশুদ্ধ" PoS ব্লকচেইনগুলো DPoS (ডেলিগেটেড প্রুফ অফ স্ট্যাক) থেকে কম সাধারণ, যেটির জন্য ব্যবহারকারীদের পুরো নেটওয়ার্কের জন্য ব্লকগুলোকে যাচাই করতে নোডগুলোতে (সাক্ষীদের) ভোট দিতে হবে।

শীর্ষস্থানীয় স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ব্লকচেইন ইথিরিয়াম শীঘ্রই ETH 2.0-তে স্থানান্তরিত হয়ে প্রুফ অফ স্ট্যাক-এ রূপান্তরিত হবে। 


প্রুফ অফ স্ট্যাকের সুবিধা

  • পরিবেশ-বান্ধব – PoS এর কার্বন ফুটপ্রিন্ট সেই PoW মাইনিংয়ের একটি ভগ্নাংশ।স্ট্যাকিং রিসোর্স-ইনটেনসিভ হ্যাশিং কার্যক্রমের আবশ্যকতাকে দূর করে।

  • দ্রুত লেনদেন – যেহেতু প্রোটোকল দ্বারা সেট করা অনিয়মিত ধাঁধার জন্য অতিরিক্ত কম্পিউটিং শক্তি ব্যয় করার প্রয়োজন নেই, তাই PoS এর কিছু প্রবক্তারা যুক্তি দেন যে এটি লেনদেনের থ্রুপুট বাড়াতে পারে।

  • পুরষ্কার এবং মুনাফা স্ট্যাক করা – মাইনারদের সাথে যোগাযোগের পরিবর্তে, নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত করার পুরষ্কারগুলো সরাসরি টোকেন হোল্ডারদেরকে প্রদান করা হয়।কিছু কিছু ক্ষেত্রে, PoS ব্যবহারকারীদেরকে শুধুই তাদের ফান্ড স্ট্যাকিং এর মাধ্যমে এয়ারড্রপ অথবা মুনাফার আকারে পরোক্ষ আয় এর সুযোগ দেয়।


প্রুফ অফ স্ট্যাকের অসুবিধা

  • অপেক্ষাকৃত অপরীক্ষিত – PoS প্রোটোকলগুলো এখনও বড় আকারে পরীক্ষা করা হয়নি।এটির বাস্তবায়ন বা ক্রিপ্টোইকোনমিক্সে কিছু অনাবিষ্কৃত দুর্বলতা থাকতে পারে।

  • প্লুটোক্রেসি – এই মর্মে কিছু উদ্বেগ রয়েছে যে PoS "ধনীকে আরো ধনী হওয়ার" পরিবেশ গড়ে তোলে, কারণ এতে বড় অংশভাগী ভ্যালিডেটররা আরো বেশি পুরষ্কার অর্জন করতে থাকে।

  • নাথিং-অ্যাট-স্ট্যাক সমস্যা – PoW-তে, ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র একটি চেইনে "বাজি" ধরতে পারে – সেই চেইনের উপর মাইনিং করে যেটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তারা বিশ্বাস করে।একটি হার্ড ফর্কের সময়, তারা একই হ্যাশ শক্তির সাথে একাধিকের উপর বাজি ধরতে পারে না।তবে, PoS-এ ভ্যালিডেটররা সামান্য অতিরিক্ত খরচ দিয়ে একাধিক চেইনে কাজ করতে পারে, যা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণ হতে পারে।


অন্যান্য কনসেনশাস অ্যালগরিদম

প্রুফ অফ ওয়ার্ক এবং প্রুফ অফ স্ট্যাক হল সবচেয়ে সাধারণ কনসেনশাস অ্যালগরিদম, তবে এর বাইরেও আরো অনেকগুলো রয়েছে। কিছু কিছু আছে হাইব্রিড যেখানে উভয় সিস্টেমের উপাদানগুলোকে একত্রিত করা হয়, অন্যগুলোর পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। 

আমরা এখানে সেগুলো নিয়ে কথা বলবো না, তবে আপনি যদি আগ্রহী হন তবে নিচের নিবন্ধগুলো দেখুন:


আমি কি ব্লকচেইন লেনদেন ফিরিয়ে আনতে পারি?

ব্লকচেইনের গঠন অনুযায়ীই এগুলো খুব শক্তিশালী ডাটাবেস হয়ে থাকে।ব্লকচেইনের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের কারণেই সেগুলোতে ডেটা রেকর্ড করার পরে তা অপসারণ বা সংশোধন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।  বিটকয়েন এবং অন্যান্য বড় নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এটি প্রায় অসম্ভব।সুতরাং, আপনি যখন একটি ব্লকচেইনে কোনো লেনদেন করবেন, তখন এটিকে চিরকালের জন্য অমোচনীয় হিসেবে ধরে নিতে পারেন।

এরপর বলা যায়, ব্লকচেইনের বিভিন্ন প্রয়োগ রয়েছে এবং সেগুলো কিভাবে নেটওয়ার্কের মধ্যে কনসেনশাস-এ পৌঁছায় সেটি দিয়েই সেগুলোর মধ্যেকার পার্থক্য নির্ণীত হয়।এর মানে হল, কিছু কিছু প্রয়োগের বেলায় অংশগ্রহণকারীদের একটি অপেক্ষাকৃত ছোট দল নেটওয়ার্কের মধ্যে কার্যকরভাবে লেনদেন প্রত্যার্পণের জন্য যথেষ্ট শক্তি সংগ্রহ করতে পারে।এটি বিশেষ করে অ্যাল্টকয়েনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা ছোট নেটওয়ার্কে চলে (স্বল্প মাত্রার মাইনিং প্রতিযোগিতার কারণে কম হ্যাশ রেট সহ)।


ব্লকচেইন স্কেলেবিলিটি কী?

ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করার জন্য ব্লকচেইন সিস্টেমের ক্ষমতা বোঝাতে ব্লকচেইন স্কেলেবিলিটি সাধারণত একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।যদিও ব্লকচেইনের কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্যসমূহ রয়েছে (যেমন বিকেন্দ্রীকরণ, সেন্সরশিপ-প্রতিরোধ, অমোচনীয়তা), তবুও এগুলোর জন্য খরচ করতে হয়।

বিকেন্দ্রীভূত সিস্টেমের বিপরীতে, একটি কেন্দ্রীভূত ডেটাবেস যথেষ্ট উচ্চগতি এবং থ্রুপুট সহ কাজ করতে পারে। এটি হওয়া সম্ভব কারণ প্রতিবার এর বিষয়বস্তু পরিবর্তন করার সময় নেটওয়ার্কের সাথে সিঙ্ক্রোনাইজ করার জন্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার নোডের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্লকচেইনের ক্ষেত্রে এটা হয় না। ফলস্বরূপ, স্কেলেবিলিটি বহু বছর ধরে ব্লকচেইন ডেভেলপারদের মধ্যে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়।

ব্লকচেইনের কর্মক্ষমতার কিছু ত্রুটি প্রশমিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বেশ কয়েকিছু সমাধানের প্রস্তাব বা প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে, এই মুহুর্তে, কোনো সর্বসম্মত সেরা পদ্ধতি নেই। স্কেলেবিলিটি সমস্যার আরো সহজবোধ্য উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সম্ভবত বিভিন্ন ধরনের আরো অনেক সমাধান পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

বৃহত্তর স্তরে, স্কেলেবিলিটি সম্পর্কিত একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে: আমাদের কি ব্লকচেইনের মধ্যেই (অন-চেইন স্কেলিং) এর কর্মক্ষমতা উন্নত করা উচিত, নাকি আমাদের মূল ব্লকচেইন (অফ-চেইন স্কেলিং) ব্লটিং না করে লেনদেন সম্পাদনের সুযোগ রাখা উচিত? 

উভয়টির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা থাকতে পারে। অন-চেইন স্কেলিং সমাধানগুলো লেনদেনের আকার হ্রাস করতে পারে, অথবা এমনকি ব্লকগুলোতে ডেটা সংরক্ষণের পদ্ধতিকে অপ্টিমাইজ করতে পারে। অন্যদিকে, অফ-চেইন সমাধানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান ব্লকচেইনের বাইরে ব্যাচিং লেনদেন করা এবং শুধুমাত্র পরবর্তীতে তা যোগ করা। কিছু উল্লেখযোগ্য অফ-চেইন সমাধানকে বলা হয় সাইডচেইন এবং পেমেন্ট চ্যানেল।

আপনি যদি এই বিষয়ে আরো নিবিড়ভাবে জানতে চান চান, তাহলে ব্লকচেইন স্কেলেবিলিটি - সাইডচেইনস এবং পেমেন্ট চ্যানেল পড়ুন।


ব্লকচেইন স্কেল করার প্রয়োজন হয় কেন?

ব্লকচেইন সিস্টেমগুলোকে যদি তাদের কেন্দ্রীভূত প্রতিপক্ষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়, তবে তাদের অন্তত সেগুলোর মতো কর্মদক্ষতা থাকতে হবে। বাস্তবপক্ষে, যদিও, ডেভেলপার এবং ব্যবহারকারীদের ব্লকচেইন-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে স্যুইচ করার জন্য উৎসাহিত করতে তাদের সম্ভবত আরো ভাল কর্মক্ষমতা দেখাতে হবে। 

এর মানে হল যে কেন্দ্রীভূত সিস্টেমের সাথে তুলনা করলে, ব্লকচেইন ব্যবহার করা দ্রুত, সস্তা এবং বিকাশকারী ও ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই সহজ হওয়া প্রয়োজন। পূর্বে আলোচিত ব্লকচেইনের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো বজায় রেখে অর্জন করা সহজ কাজ নয়। 


ব্লকচেইন ফর্ক কী?

যেকোনো সফ্টওয়্যারের মতো, ব্লকচেইনগুলোর সমস্যাগুলো সমাধান করতে, নতুন নিয়ম যুক্ত করতে কিংবা পুরানোগুলো সরিয়ে ফেলতে সেগুলো আপগ্রেড করার দরকার হয়।বেশিরভাগ ব্লকচেইন সফ্টওয়্যার তাত্ত্বিকভাবে ওপেন সোর্স হওয়ায় নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী যেকেউ এমন সফ্টওয়্যারে নতুন আপডেট যোগ করার প্রস্তাব দিতে পারে। 

মনে রাখবেন যে ব্লকচেইন হল ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক। একবার সফ্টওয়্যারটি আপগ্রেড করা হয়ে গেলে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার নোডকে যোগাযোগ করতে এবং নতুন সংস্করণটি প্রয়োগ করতে সক্ষম হতে হবে। কিন্তু যদি অংশগ্রহণকারীরা কোনো আপগ্রেড বাস্তবায়নে একমত না হতে পারে তাহলে কী হবে? সাধারণভাবে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্তসূত্রের ক্ষমতাধারী কোনো প্রতিষ্ঠিত সংস্থা নেই। এটি আমাদেরকে সফট ও হার্ড ফর্ক পদ্ধতির দিকে চালিত করে।


সফট ফর্ক

একটি আপগ্রেড কেমন হবে সে বিষয়ে একটি সাধারণ চুক্তি থাকলে, বিষয়টি অপেক্ষাকৃত সহজ হয়। এরকম একটি পরিস্থিতিতে, সফ্টওয়্যারটি একটি ব্যাকওয়ার্ড-কম্প্যাটিবল পরিবর্তনসহ আপডেট করা হয়, যার অর্থ আপডেট করা নোডগুলো এরপরও অপরিবর্তিত নোডগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যদিও বাস্তবে প্রত্যাশিতরূপে প্রায় সকল নোড সময়ের সাথে সাথে আপগ্রেড হবে। একে বলা হয় সফট ফর্ক। 


হার্ড ফর্ক

হার্ড ফর্ক আরো জটিল বিষয়। কার্যকর হলে, নতুন নিয়ম পুরনো নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। সুতরাং, যদি নতুন নিয়ম চালনাকারী কোনো নোড পুরাতন নিয়ম চালনাকারী কোনো নোডের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাহলে তারা যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে না। এর ফলে ব্লকচেইন দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে – একটিতে চলবে পুরানো সফ্টওয়্যার যখন অন্যটিতে নতুন নিয়ম প্রযুক্ত হবে।

হার্ড ফর্ক প্রযুক্ত হলে, মূলত দুটি ভিন্ন প্রোটোকল দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্ক সমান্তরালে চলতে থাকে। লক্ষণীয় যে, ফর্ক প্রয়োগের সময়, ব্লকচেইনের নেটিভ ইউনিটের ব্যালেন্সগুলো পুরানো নেটওয়ার্ক থেকে ক্লোন করা হয়। সুতরাং, ফর্ক প্রয়োগের সময় যদি আপনার পুরানো চেইনে ভারসাম্য থাকে, তবে নতুনটিতেও ভারসাম্য থাকবে। 

এই বিষয়ে আরো জানতে হার্ড ফর্কস এবং সফট ফর্কস দেখুন।



অধ্যায় 3 - ব্লকচেইন কিসের জন্য ব্যবহৃত হয়?


বিষয়বস্তু


ব্লকচেইন প্রযুক্তি বিপুল পরিসরে নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।চলুন সেগুলোর কয়েকটি সম্পর্কে জানা যাক। 


সাপ্লাই চেইনের জন্য ব্লকচেইন

অনেক সফল ব্যবসার মূলে থাকে সুদক্ষ সাপ্লাই চেইন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য হল সরবরাহকারীর নিকট থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখা। কোনো নির্দিষ্ট শিল্পে একাধিক স্টেকহোল্ডারের সমন্বয় ঐতিহ্যগতভাবে কঠিন বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি অনেক শিল্পে স্বচ্ছতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। একটি শক্তিশালী ডেটাবেসের ভিত্তিতে গড়ে তোলা কোনো ইন্টারঅপারেবল সাপ্লাই চেইন ইকোসিস্টেম অনেক শিল্পের জন্য আরো বেগবান ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার হাতিয়ার।

এ বিষয়ে আরো পড়তে, ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: সাপ্লাই চেইন দেখুন।


ব্লকচেইন ও গেমিং ইন্ডাস্ট্রি

গেমিং ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের অন্যতম বড় বিনোদন শিল্পে পরিণত হয়েছে এবং এটি ব্লকচেইন প্রযুক্তি থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারে। সাধারণত, গেমাররা গেম ডেভেলপারদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। বেশিরভাগ অনলাইন গেমে, গেমারদেরকে ডেভলপারদের সার্ভার স্পেসের উপর নির্ভর করতে হয় এবং তাদের সর্বদা পরিবর্তনশীল নিয়মগুলো মেনে চলতে বাধ্য হতে হয়। এই প্রেক্ষিতে, ব্লকচেইন অনলাইন গেমগুলোর মালিকানা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণকে বিকেন্দ্রীকরণে সহায়তা করতে পারে।

তবে, সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি দেখা দিতে পারে তা হল গেমিং আইটেমগুলো প্রকৃত মালিকানা এবং সেকেন্ডারি মার্কেটের সম্ভাবনাকে দূরীভূত করে মালিকানাহীন অবস্থায় থাকতে পারে না। ব্লকচেইন-ভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে, গেমগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরো টেকসই হয়ে উঠতে পারে এবং ক্রিপ্টো-সংগ্রহযোগ্য হিসাবে জারি করা ইন-গেম আইটেমগুলো ব্যবহারিক মূল্য অর্জন করতে পারে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: গেমিং দেখুন।

গেমিং-এ ব্লকচেইন


স্বাস্থ্যসেবায় ব্লকচেইন

একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে মেডিকেল রেকর্ড সংরক্ষণ করা যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য অত্যাবশ্যক এবং কেন্দ্রীভূত সার্ভারের উপর নির্ভরতা সংবেদনশীল তথ্যগুলোকে অরক্ষিত অবস্থায় রাখে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা এটিকে একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলে যেখানে চিকিৎসা রেকর্ড সংরক্ষণ করা যায়।

ক্রিপ্টোগ্রাফিক উপায়ে ব্লকচেইনে সেগুলোর রেকর্ড সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে, রোগিরা তাদের গোপনীয়তা বজায় রেখেই তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করতে সক্ষম হন। বর্তমানে সমন্বয়হীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমস্ত অংশগ্রহণকারীরা যদি একটি নিরাপদ, বৈশ্বিক ডেটাবেসে ট্যাপ করতে পারে তবে তাদের মধ্যে তথ্য প্রবাহ অনেক দ্রুত হবে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে, ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: স্বাস্থ্যসেবা দেখুন।


ব্লকচেইন রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ প্রেরণ প্রথাগত ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে একটি ঝামেলা বিশেষ। প্রধানত মধ্যস্থতাকারীদের একটি জটিল নেটওয়ার্কের কারণে, ফি এবং নিষ্পত্তির জন্য ব্যয়িত সময় প্রথাগত ব্যাংকগুলোকে ব্যয়বহুল এবং জরুরি লেনদেনের ক্ষেত্রে অবিশ্বস্ত করে তোলে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইনগুলো মধ্যস্বত্বভোগীদের জটাজাল দূর করে এবং বিশ্বজুড়ে সুলভ, দ্রুত ট্রান্সফারের সুযোগ করে দিতে পারে। যদিও ব্লকচেইনগুলো নিঃসন্দেহে সেগুলোর কিছু কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে কর্মক্ষমতার অনেকটাই কম ব্যবহার করে, অনেকগুলো প্রজেক্টে সুলভ, প্রায়-তাৎক্ষণিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি করার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: রেমিট্যান্স দেখুন।


ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে শুরু করতে চাইছেন? Binance-এ বিটকয়েন ক্রয় করুন!


ব্লকচেইন এবং ডিজিটাল পরিচয়

নিরাপদে ইন্টারনেটে পরিচয় পরিচালনার জন্য একটি দ্রুত সমাধানের আশু প্রয়োজন।কেন্দ্রীভূত সার্ভারে বিপুল পরিমাণে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করা হয় এবং আমাদের অবগতি বা সম্মতি ছাড়াই মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম দ্বারা সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। 

ব্লকচেইন প্রযুক্তি এটির ব্যবহারকারীদেরকে তাদের ডেটার মালিকানা পাওয়ার সুযোগ এবং তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রয়োজনমাফিক তা ইচ্ছা সাপেক্ষে প্রকাশ করার অনুমতি প্রদানের সুযোগ করে দেয়। এই ধরনের ক্রিপ্টোগ্রাফিক সুবিধা গোপনীয়তা ফাঁস করা ছাড়াই অনলাইনে মসৃণ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: ডিজিটাল পরিচয় দেখুন।

 ব্লকচেইন এবং ডিজিটাল পরিচয়


ব্লকচেইন এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT)

বিপুল পরিমাণে বস্তুগত ডিভাইস ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত হচ্ছে এবং এই সংখ্যাটি ক্রমবর্ধমান।কেউ কেউ অনুমান করেন যে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি দ্বারা এই ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।স্বয়ংক্রিয় মেশিন-টু-মেশিন (M2M) মাইক্রোপেমেন্ট একটি নিরাপদ, উচ্চ-থ্রুপুট ডেটাবেস সমাধানের উপর নির্ভরশীল একটি নতুন অর্থনীতি তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) দেখুন।


শাসন পরিচালনায় ব্লকচেইন

ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক কম্পিউটার কোডের আকারে তাদের নিজস্ব নিয়মগুলোকে সংজ্ঞায়িত এবং প্রয়োগ করতে পারে। ফলে এটি বিস্ময়কর যে, ব্লকচেইনের পক্ষে স্থানীয়, জাতীয় অথবা এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে। 

সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এটি ওপেন সোর্স ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি সমাধান করতে পারে – সেটি হল ফান্ড বিতরণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার অভাব। ব্লকচেইন গভর্নেন্স সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল অংশগ্রহণকারীর সম্পৃক্ত থাকা নিশ্চিত করে এবং কোন নীতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে সেটির একটি স্বচ্ছ ওভারভিউ প্রদান করে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: শাসন পরিচালনা দেখুন।


দাতব্য কাজে ব্লকচেইন

দাতব্য সংস্থাগুলো প্রায়ই তাদের ফান্ড গ্রহণের পদ্ধতি নির্ণয়ে সীমাবদ্ধতা দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়। আরো হতাশাজনক বিষয় হল, প্রাপ্ত অনুদান ফান্ডের চূড়ান্ত গন্তব্যটি সঠিকভাবে ট্র্যাক করা কঠিন হতে পারে, যা নিঃসন্দেহে অনেককে এই সংস্থাগুলোতে সহায়তা প্রদানে নিরুৎসাহিত করে থাকে।

এই সীমাবদ্ধতাগুলো এড়ানোর জন্য ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে "ক্রিপ্টো-" কাজ করে চলেছে।অধিকতর স্বচ্ছতা, বৈশ্বিক অংশগ্রহণ এবং ব্যয় হ্রাস নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে, উদীয়মান ক্ষেত্রটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রভাবকে সর্বাধিক ফলপ্রসূ করার চেষ্টা করে।এরকম একটি প্রতিষ্ঠান হল ব্লকচেইন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: দাতব্যকর্ম দেখুন।


অনুসন্ধানের জন্য ব্লকচেইন

নিঃসন্দেহে, ব্লকচেইন প্রযুক্তির অন্যতম জনপ্রিয় ব্যবহার হল অনুসন্ধান। এক্সচেঞ্জগুলো সংঘর্ষহীনভাবে ট্রান্সফার করা, নন-কাস্টোডিয়াল ট্রেডিং সমাধান এবং উদ্ভূত পণ্যের ক্রমবর্ধমান ইকোসিস্টেম এটিকে সব ধরনের ফটকাবাজদের জন্য একটি আদর্শ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত করে।

অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের কারণে, ব্লকচেইন তাদের জন্য এমন এক চমৎকার ইন্সট্রুমেন্ট যারা এই ধরনের বিকাশমান সম্পদ শ্রেণীতে অংশগ্রহণের ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক। কেউ কেউ এমনও ভাবেন যে, প্রযুক্তি এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিধিমালা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, গ্লোবাল ফটকা বাজারের পুরোটাই ব্লকচেইনে টোকেনাইজড হতে পারে।

এ বিষয়ে আরো পড়তে চাইলে ব্লকচেইন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ: প্রডিকশন মার্কেট দেখুন।

ব্লকচেইন এবং প্রেডিকশন মার্কেট


ব্লকচেইন দিয়ে ক্রাউডফান্ডিং

অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায় এক দশক ধরে পিয়ার-টু-পিয়ার অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করছে। এই সাইটগুলোর সাফল্য প্রমাণ করে যে, ক্রাউড ফান্ডেড পণ্য বিকাশের জন্য প্রকৃত আগ্রহ বজায় রয়েছে। তবে, যেহেতু এই প্ল্যাটফর্মগুলো ফান্ডের রক্ষক হিসেবে কাজ করে, তাই তারা ফি হিসেবে সেগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে নিতে পারে। এছাড়াও, বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চুক্তি সহজতর করার জন্য তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব নিয়ম থাকবে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং আরো বিশেষভাবে স্মার্ট চুক্তিগুলো, আরো নিরাপদ, স্বয়ংক্রিয় ক্রাউডফান্ডিংয়ের সুযোগ করে দিতে পারে যেখানে চুক্তির শর্তাবলী কম্পিউটার কোডে সংজ্ঞায়িত করা হয়। 

ব্লকচেইন ব্যবহার করে ক্রাউডফান্ডিংয়ের আরেকটি প্রয়োগ হল ইনিশিয়াল কয়েন অফারিং (ICOs) এবং ইনিশিয়াল এক্সচেঞ্জ অফারিং (IEOs) ।এই ধরনের টোকেন বিক্রয়ে, বিনিয়োগকারীরা এই আশায় তহবিল সংগ্রহ করে যে নেটওয়ার্কটি ভবিষ্যতে সফল হবে এবং তারা তাদের বিনিয়োগের বিপরীদে রিটার্ন পাবে।


ব্লকচেইন এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম

প্রচলিত কেন্দ্রীভূত বিকল্পগুলোর তুলনায় ইন্টারনেটে ফাইল স্টোরেজ বিতরণের অনেক সুবিধা রয়েছে। ক্লাউডে সংরক্ষিত বেশিরভাগ ডেটা কেন্দ্রীভূত সার্ভার এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের উপর নির্ভর করে, যা আক্রমণের শিকার হওয়া এবং ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, কেন্দ্রীভূত সার্ভার থেকে সেন্সরশিপের কারণে ব্যবহারকারীদের অ্যাক্সেসযোগ্যতারও সমস্যা হতে পারে।

ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্লকচেইন ফাইল স্টোরেজ সমাধানগুলো অন্যান্য ক্লাউড স্টোরেজ সমাধানগুলোর মতোই কাজ করে – আপনি ফাইলগুলো আপলোড করতে, সংরক্ষণ করতে এবং অ্যাক্সেস করতে পারেন। অন্তরালে যা ঘটে, তা কিন্তু একেবারেই আলাদা।

আপনি যখন একটি ব্লকচেইন স্টোরেজে একটি ফাইল আপলোড করেন, তখন এটি বিভিন্ন নোড জুড়ে বিতরণ এবং প্রতিলিপি করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, প্রতিটি নোড আপনার ফাইলের একটি আলাদা অংশ সংরক্ষণ করবে। তারা আংশিক ডেটা দিয়ে অনেক কিছু করতে পারে না, তবে আপনি পরবর্তীতে প্রতিটি অংশ সরবরাহ করার জন্য নোডগুলোকে অনুরোধ করতে পারেন, যাতে আপনি সেগুলো একত্রিত করে সম্পূর্ণ ফাইলটি ফিরে পেতে পারেন।

স্টোরেজ স্পেসটি অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যারা নেটওয়ার্কে তাদের স্টোরেজ এবং ব্যান্ডউইথ প্রদান করে। সাধারণত, এই অংশগ্রহণকারীদের সেই সংস্থানগুলো সরবরাহ করার জন্য অর্থনৈতিকভাবে প্রণোদনা দেওয়া হয় এবং তারা নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করলে কিংবা ফাইলগুলো সংরক্ষণ এবং প্রদান করতে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়।

আপনি এই ধরনের নেটওয়ার্ককে বিটকয়েনের অনুরূপ হিসাবে ভাবতে পারেন। তবে, এইক্ষেত্রে, নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য আর্থিক মূল্য স্থানান্তরে সহায়তা করা নয় বরং সেন্সরশিপ-প্রতিরোধী, বিকেন্দ্রীভূত ফাইল স্টোরেজ সক্ষম করা।

অন্যান্য ওপেন-সোর্স প্রোটোকল যেমন ইন্টারপ্ল্যানেটারি ফাইল সিস্টেম (IPFS) ইতোমধ্যেই এই নতুন, অপেক্ষাকৃত স্থায়ী এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ওয়েবের জন্য পথ তৈরি করছে।যদিও IPFS একটি প্রোটোকল এবং একটি পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক, কিন্তু প্রকৃত বিচারে এটি কোনো ব্লকচেইন নয়।তবে, এটি নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বাড়াতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির কিছু নীতি প্রয়োগ করে।